ঐতিহাসিক আমঝুপি ‘নীলকুঠি’ চারণভূমিতে পরিণত!
- আপলোড তারিখঃ
০৪-০৫-২০১৯
ইং
এসআই বাবু/হামিদ:
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত মেহেরপুর জেলার পর্যটক কেন্দ্র ঐতিহাসিক আমঝুপি নীলকুঠি ও আ¤্রকাননের সৌন্দর্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। জেলা শহর থেকে ৪ মাইল পূর্বে অবস্থিত আমঝুপি নীলকুঠি ৭৭ একর ২৮ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। কুঠিবাড়ির দক্ষিণে কাজলা নদী। সংরক্ষণের অভাবে নীলকুঠির ঐতিহ্য আজ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কুঠিবাড়ির চতুর্দিকে ওয়াল না থাকায় গরু-ছাগলের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। কুঠিবাড়ির বিভিন্ন গাছের ডালপালা চুরি হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, এই কুঠিবাড়ি ব্রিটিশ বেনিয়াদের অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নীল ব্যবসায়ীদের দোর্দ- প্রতাপে একদিন মেহেরপুরসহ পশ্চিমবঙ্গের অগণিত কৃষক ছিল দিশেহারা। আজ ব্রিটিশ সা¤্রাজ্য নেই। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নেই। জমিদার বাড়ির কাছারিও নেই। কিন্তু শোষণ-বঞ্চনা, নির্যাতন-অত্যাচার আর ষড়যন্ত্রের স্মৃতি নিয়ে নীরব সাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে মেহেরপুরের আমঝুপি নীলকুঠি বাড়ি। আমঝুপি কুঠিবাড়ির চৌহদ্দির ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় মূল ভবন। দক্ষিণমুখী মূল ভবনের সামনে রয়েছে বিশাল বারান্দা। বারান্দার সামনে সদর দরজার দুই পাশে ফুল বাগান। এই বাগানে এখন ব্রিটিশ আমলের ফুলের সমারোহ নেই। সুদূর অতীতের স্মৃতি নিয়ে দুটি নীলগাছ এখনো দাঁড়িয়ে আছে। মূল ভবনের অভ্যন্তরে রয়েছে মোট ১৫টি কক্ষ। এর মধ্যে ৩টি বড় বেডরুম। কাঠের পাটাতন করা হলরুমের ডানদিকে ফায়ারপ্লেস। পিছনে ডাইনিং রুম। হল রুমটি কনফারেন্স হল এবং নাচঘর হিসাবে ব্যবহৃত হতো বলে জানা যায়।
মূল ভবনে রয়েছে মোট ৪টি সাজঘর এবং একটি সার্ভেন্ট কোয়ার্টার। অপেক্ষাকৃত সুশোভিত ঘরটি ব্যবহৃত হচ্ছে ভিআইপি রুম হিসাবে। এ রুমটিতে রয়েছে মসৃণ মেঝে। সংলগ্ন বাথরুমে সাদা টাইলস যা প্রায় ২৬৬ বছরের পুরাতন। কাঠের আসবাবপত্রগুলোও সে আমলের ঐতিহ্য বহন করছে। অধিকাংশ দামি আসবাবপত্র ইতিমধ্যে খোয়া গেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ট্রাকে করে এখান থেকে খুলনার বয়রায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হলরুমের ফ্লোরে যে কাঠ ব্যবহার করা হয়েছিল এখন আর তা নেই। বাকি কক্ষগুলো ব্রিটিশ আমলের স্মৃতি বহন করছে। মূল ভবনের ডানদিকে রয়েছে কবুতর রাখার জন্য একটি সুন্দর বাসা। জনশ্রুতি রয়েছে ব্রিটিশ বেনিয়ারা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কবুতর ব্যবহার করতো। এই কুঠি থেকে অন্য কুঠিতে চিঠিপত্রের আদান-প্রদানের জন্য পায়রার সাহায্য নেওয়া হতো। আরো ডানদিকে বাড়ির শেষ প্রান্তে রয়েছে নীল গুদাম। এখানে নীল প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হত এবং সেখান থেকেই কলকাতা ও কালিকট বন্দরে পাঠানো হত। মূল ভবনের ডানদিকে এবং বাড়ির শেষ প্রান্তে আস্তাবল। সেখানে এখন আর ঘোড়া নেই। গড়ে উঠেছে জনবসতি।
কমেন্ট বক্স