সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বাল্যবিবাহ-মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৪-২০১৯ ইং
বাল্যবিবাহ-মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে
ডিঙ্গেদহ বালিকা বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশে লোকমান হোসেন মিয়া বিশেষ প্রতিবেদক: খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া বলেছেন, ‘মাদকাসক্ত সন্তানের কারণে পিতা-মাতা সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হয়। তার কারণে বাড়িতে বিবাহ উপযুক্ত অন্য সন্তানের বিবাহ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। শুধু তাই না, মাদকের চাহিদা মেটাতে পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করতে ছাড়ে না সন্তান। একপর্যায়ে ভয়ঙ্কর অন্ধকার জগতে পা বাড়ায়। তাই খেয়াল রাখুন সন্তানের গতিবিধির উপর। সে কোথায় যায়, কাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, কী চিন্তা ভাবনা করে। তার চলাফেরা যদি আপনার মধ্যে সন্দেহের জন্ম দেয় তবে তার গতিরোধ করুন। নতুবা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মতো দেশদ্রোহী অপরাধী হয়ে উঠতে পারে আপনার সন্তান। সম্মিলিতভাবে বাল্যবিবাহ-মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।’ গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা সদরের ডিঙ্গেদহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মাদক, জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন ও উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘একসময় শিক্ষা ছিল না, একটি গ্রামে একজন মেট্রিক পাশ খুঁজে পাওয়া যেত না। এখন ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে, শিক্ষা মানুষকে পূর্ণতা দেয়। তাই আপনাদের ছেলে মেয়েকে স্কুলে পাঠাবেন। সরকার সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছে; কেনো আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন না? আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি যদি আমার ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে তুলতে পারি, ওরা নিজেরাই নিজেদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে। বাল্য বিবাহ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক আগ্রসান থাকবে না। সামাজিকতা বৃদ্ধি পাবে, ছোট ছোট পরিবার হবে, সমাজব্যবস্থা উন্নত হবে। শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে জ্বালো; এটা মুখের নয়, বাস্তবের কথা।’ বাল্যবিবাহ, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল প্রসঙ্গে লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘বাল্যবিবাহ একটি মারাত্মক সামাজিক অবক্ষয়। সমাজ এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নে যে কয়টি বড় সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম এটি। মাদক সমস্যাও বড় সমস্যা, এরজন্য আমরা দায়ী। আমরা যারা রাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধি, রাজনীতিবীদ, শিক্ষক, বাবা-মা রয়েছি তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করি না। সন্তানকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবারের গুরুত্ব রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নিয়মিত আমরা যদি আমাদের সন্তানদের নিয়মিত মনিটর করি তবে তারা মাদক কেনো, কোনও অবৈধ কাজে পা বাড়াবে না। দেখবেন ছেলে মেয়েরা সময়মতো বাড়িতে আসছে কি না, ঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমাচ্ছে কি না। এরপর তারা ঘুমিয়ে গেলে মুখের কাছে নাক নিয়ে দেখুন স্বাভাবিক ঘ্রাণ আসছে কি না। যদি অস্বাভাবিক কিছু দেখেন তবে ওই মুহূর্ত থেকেই তাকে শাসন করুন।’ সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার মতো উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখা আজ শুধু স্বপ্ন না, বাস্তব। ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌছাবে। বর্তমানে দারিদ্রতা শুন্যের কোটায়। খুলনা বিভাগের সকল জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম এখন ভিক্ষকমুক্ত। ২ হাজার ১৪৬ জন ভিক্ষুক তালিকাভুক্ত করে তাদের পুর্নবাসন করা হয়েছে। যাদের জমি আছে ঘর নাই, তাদের ঘর করে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। পরের পরিকল্পনা তাদের পাঁকা ঘর করে দেয়া হবে।’ সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াশীমুল বারী, শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীরা।


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নতুন ওসি মনিরুজ্জামানের যোগদান