এসএম শাফায়েত: চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, আদর্শগ্রাম, চোদ্দগ্রাম এমনকি কিলোগ্রামের নাম আমরা সবসময়ই শুনি। এবার এমন একটি নতুন গ্রাম আবিষ্কার হয়েছে, যার নাম কলাগ্রাম বা কাচা কলার গ্রাম। এটি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের মাছেরদাইড় নামেই সুপরিচিত। বর্তমানে এ গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই কাচা কলার গাছ দেখা মেলে। নতুন করে গ্রামের দু’শতাধিক বাড়িতে ও গ্রামের রোডের ধারে চার শতাধিক কাঁচা কলার সাকার/চারা লাগানো হয়েছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের চমৎকার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিস। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গ্রামের বসত বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার ধারে সাকার রোপন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ তালহা জুবায়ের মাসরুর নিউটন। এতে অংশ নেন কৃষি অফিসার আফরিন বিনতে আজিজ, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আমিরুল হক রাসেল, স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী, রওশন আলীসহ গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক ও সূধীজনেরা। ব্যতিক্রম এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ তালহা জুবায়ের মাসরুর নিউটন বলেন, ‘আমরা চাই গ্রামের প্রতিটা বাড়িতে কাঁচা কলার গাছ থাকুক। নিরাপদ পুষ্টিকর খাবারের প্রাপ্তি হোক সহজলভ্য। এই লক্ষ্যে মাছেরদাইড় গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ২০০ ও রাস্তার ধারে ৪০০ কাচা কলার সাকার রোপণ করা হলো।’ তিনি বলেন, ‘প্রাচীণ যুগ থেকে পেটের অসুখে উপকার পাওয়া ছাড়াও কাঁচা কলার পুষ্টিগুণাগুণ অনেক। আলসার, সংক্রমণ, ডায়রিয়া এমনকি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পথ্য হিসেবে কাঁচা কলার ব্যবহার প্রচলিত। কাঁচা কলায় বেশি মাত্রায় স্টার্চ বা শ্বেতসার, ‘শর্ট-চেইন’ ফ্যাটি অ্যাসিড ও নানান ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান থাকে। এতে পটাশিয়াম, খাদ্য আঁশ ও সামান্য প্রোটিনও আছে। ডায়রিয়ার চিকিৎসা, হজমে সহায়তা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি নানাবিধ উপকারি এই সবজি দিন দিন আমাদের গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন