প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্বিখন্ডিত হলো বদরগঞ্জ পশুহাট
- আপলোড তারিখঃ
০৭-০৪-২০১৯
ইং
দীর্ঘ ৫২ বছরের ঐতিহ্যবাহী হাজী বদর উদ্দীন ওয়াফ এ্যাস্টেট
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ ৫২ বছরের ঐতিহ্যবাহী হাজী বদর উদ্দীন ওয়াকফ এ্যাস্টেটের অধীনের বদরগঞ্জ পশুহাটটি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্বিখন্ডিত হলো। এর একটি চুয়াডাঙ্গা জেলার নয় মাইল ভুল্টিয়ার আব্দুলাহর ইটভাটার মাঠে অপরটি ঝিনাইদহ জেলার বুড়া গ্রামের সাধুহাটি ইউপি চত্তরে। গতকাল শনিবার ব্যাপারীরা তাদের নিরাপত্তা বুঝে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বদরগঞ্জ পশুহাটের পরিবর্তে উল্লেখিত স্থানে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ করে। হাটের ব্যাপারে প্রশাসনের যুক্তি আইনগত হলেও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎস্য বন্ধ হওয়ায় এলাকাবাসী ও উদ্দীন ওয়াফ এ্যাস্টেট কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারছে না।
উল্লেখ্য, ৫২ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী বদরগঞ্জ পশুহাটটি বসায় বদরগঞ্জের দানশীল ধর্মানুরাগী মরহুম হাজী বদর উদ্দীন। তিনি তার জীবদ্দশায় নিজস্ব সম্পদ আহরণের পাশাপাশি অত্রালাকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন প্রকার সাহায্য সহযোগীতা করে আসছিল। এক পর্যায়ে তিনি অনুভব করেন তার অবর্তমানে এলাকার মানুষের কল্যাণে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান থাকলে মানুষ উপকৃত হবে। তার এই ইচ্ছার প্রতিফলন মোতাবেক বদরগঞ্জের প্রধান সড়কের পাশে ১০ বিঘা জমি দান পূর্বক হাজী বদর উদ্দীন ওয়াফ এ্যাস্টেট প্রতিষ্ঠা করেন। এই এ্যাস্টেটের অধীনে লিল্লাহ বোডিং, মসজিদ, কবরস্থান ও অন্যান্য দাতব্য কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার মানুষের কল্যাণকর কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। পরবর্তীতে তার অবর্তমানে উক্ত ওয়াফ এ্যাস্টেট পরিচালনার জন্য আয়ের উৎস্য হিসাবে গোড়ে তোলেন দোকান পাট ও ওয়াফ এ্যাস্টের জায়গায় বসান পশুহাট। এই পশুহাটের সকল আয় দিয়ে দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে চলছিল ওয়াফ এ্যাস্টের খরচ। কিন্ত সরকারের স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসলে বেশ কয়েকবার এই পশুহাট নিয়ে সরকার বনাম ওয়াফ এ্যাসটেটের কমিটির সাথে মোকাদ্দমা হলেও সরকার বেশ কয়েকবার আইনী লড়াইয়ে পরাজিত হয়।
সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার বর্তমান প্রশাসনের নজরে আসে বদরগঞ্জ পশুহাটের দিকে। সে মোতাবেক সরকারি রাজস্ব আয়ের জন্য হাটটি সরকারের অধীনে নেওয়ার জন্য হাট ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিরুদ্ধে হাজী বদর উদ্দীন ওয়াফ এ্যাসটেট কমিটি উক্ত বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আইনের দারস্ত হয়। কিন্তু প্রশাসন স্ব-উদ্যোগে বদরগঞ্জ পশুহাটটি উক্ত গত শনিবার বদরগঞ্জ হাজী বদর উদ্দীন ওয়াফ এ্যাসটেটের জমিতে না বসিয়ে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী হাটটি নয়মাইল ভুলটিয়াতে বসায়। এত করে দেখা যায় বদরগঞ্জে হাট না বসাতে পশু ব্যাপারীদের মধ্যে দু’পক্ষে বিভক্ত হয়ে যায়। এক পক্ষ হাট বসায় নয়মাইল ভুলটিয়ার আব্দুল্লার ইটভাটার মাঠে ও অপর পক্ষ হাট বসায় ঝিনাইদহ জেলার বুড়া গ্রামের সাধুহাটি ইউপি চত্তরে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসির মাঝে গুঞ্জন ছড়িয়েছে প্রশাসনের কারণে বদরগঞ্জ পশুহাটটি দু’ভাগে বিভক্ত হলো। আর এই হাটটি বদরগঞ্জ থেকে স্থান্তরিত হওয়ায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী হাট যেমন বন্ধ হলো অপরদিকে হাজী বদরউদ্ধীন ওয়াফ এ্যাসটেটের আয় কমে যাওয়ায় এই এ্যাসটেটের উন্নয়ন কার্যক্রম কা এতিম ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও এলাকার গরীব অসহায় মানুষের মাছে যে দাতব্য সেবা বিদ্যমান ছিল তা বন্ধ হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে হাজী বদরউদ্ধীন ওয়াফ এ্যাসটেট কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশিমুল বারী সমীকরণকে জানান, হাট-বাজার ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান নয় তাই বদরগঞ্জ পশুহাটটি বদরগঞ্জ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে, সচেতন মহলের ভাষ্য ভিন্ন সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ও তার পরিচালনায় ব্যক্তি উদ্যোগকে সহযোগীতার হাত বাড়ায়। কিন্ত দীর্ঘদিনের আয়ের উৎসকে বন্ধ করে দেওয়া আইনগত সঠিক হলেও প্রাশাসন ইচ্ছা করলে হাজী বদর উদ্দীন ওয়াফ এ্যাসটেটের উন্নয়নে বিকল্প ব্যবস্থায় সরকারের আইনের মধ্যে থেকে হাটটি বদরগঞ্জে রেখে সবার স্বার্থ রক্ষার নজির স্থাপন করতে পারে।
কমেন্ট বক্স