রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গরিবের ডাক্তার লিটুর ইন্তেকাল: বিভিন্ন মহলের শোক

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০১-২০১৯ ইং
গরিবের ডাক্তার লিটুর ইন্তেকাল: বিভিন্ন মহলের শোক
রাজধানীর উত্তরা মেডিকেল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ও চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান ও গরিবের ডাক্তার খ্যাত উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রাকিবুল ইসলাম লিটু (৫১) চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি.....রাজিউন)। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ মরহুমের গুণগ্রাহীরা। ল্যাবএইড হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, গত বুধবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় লিটু স্যারের। তখন থেকেই তাঁর অবস্থা খুব গুরুতর ছিল। শুক্রবার তার স্বাস্থ্যের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে বাঁচিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও দুপুরে ডা. লিটু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল বাদ মাগরিব উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠে তার প্রথম জানাযা ও উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাত ৯টার দিকে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। তাঁর অকাল মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ভিড় জমায় আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী। শোকাহত এসব মানুষকে নিরবে চোখের পানি ফেলতে দেখা গেছে। এমনকি অসংখ্য রোগীও নিরবে চোখের পানি ফেলছেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের বোয়ালমারি গ্রামের মৃত আনছার আলীর ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামের পৌছালে পুরো গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি গ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে ছিলেন খুব জনপ্রিয়। চুয়াডাঙ্গা থেকে কোন রোগী গেলে তিনি শুধু সেবাই করতেন না, তার নিজের বাড়িতে নিয়ে আপ্যায়ন করাতেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনে দিতেন বলে জানায় এলাকাবাসী। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে রেখে গেছেন। তিনি চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। তার শৈশব জীবন কাটে চুয়াডাঙ্গাতে। তিনি চুয়াডাঙ্গার নীলমনিগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা দেন। পরে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন এবং আমেরিকা থেকে এসএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করে দেশে ফেরেন। তারপর ২০০৩ সালে ঢাকা বারডেম হাসপাতাল চাকরি জীবনের সূচনা করেন। পরে মহাখালী হাসপাতাল ও লুবানা জেনারেল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড ও উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্তব্যরত ছিলেন। মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ছুটে যান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপিসহ বিশিষ্টজন থেকে সব শ্রেণির মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আবেগঘন স্ট্যাটাস দেয়। তার এই অকাল মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর (বিডিচ্যাম)’র প্রেসিডেন্ট ও সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরীফুজ্জামান শরীফ, দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনসহ সমীকরণ পরিবার। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাকিবুল ইসলাম লিটু গরিবের ডাক্তার হিসেবে খ্যাতিও অর্জন করেন। কারণ গরিব মানুষের জন্যই ছিল তার লড়াই। দরিদ্র রোগীদের কল্যাণে গড়ে তোলেন ‘পেশেন্ট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’। স্বপ্ন দেখতেন এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার খরচ মেটানোর। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রোগীদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে গেছেন এবং নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ। মানবদরদি এই চিকিৎসক চেম্বারে প্রতিদিন যত রোগী দেখতেন তার অধিকাংশের কাছ থেকেই ফি নিতেন না। বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভিজিটে এসে যেসব ওষুধ দিতেন তা গরিব রোগীদের মধ্যে বণ্টন করে দিতেন। বহু দরিদ্র হৃদরোগীর জটিল অস্ত্রোপচার বিনা পারিশ্রমিকে (টাকা না নিয়ে) করে দিয়েছেন। অসংখ্য রোগীকে বাড়ি ফেরার টাকা পকেট থেকেও দিতেন। গত ১৫ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেষবারের মতো তিনি লিখেছিলেন- ‘গরিব রোগীদের চিকিৎসা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের সংগ্রাম চলছেই, চলবে। এই সংগ্রামে সমাজের সব পেশার বিবেকবান মানুষদের পাশে চাই। আপনার একদিনের সিগারেটের টাকা একজন হতদরিদ্র রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় ১১৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি