শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মানুষকে অন্ধ করা হাসপাতাল অবশ্যই বন্ধ করা হবে -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০৪-২০১৮ ইং
মানুষকে অন্ধ করা হাসপাতাল অবশ্যই বন্ধ করা হবে -স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে চোখের ছানি অপারেশনের পর ২০ রোগীর চোখ নষ্ট বিএমডিসির তদন্ত সম্পন্ন : আজ আসছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঁচ সদস্যের তদন্ত দল জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে অপারেশনের পর ১৯ রোগির চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করে ‘জীবন তরী’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১৯ জন রোগীর চোখ অন্ধ করে দিয়েছে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য অচিরেই ওই হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। গতকাল বুধবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে মডেল ফার্মেসি উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল হেল্থ কেয়ার সেন্টারে ১৯ রোগীর চোখের ছানি অপারেশনের পর একটি করে চোখ তুলে ফেলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এক দিনের তদন্ত কাজ গতকাল বুধবার দুপুরে সম্পন্ন করেছে। এছাড়া উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ওই তদন্ত কমিটি আজ ৫ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে তদন্ত করবে। তাই ক্ষতিগ্রস্থ সমস্ত রোগীকে হেলথ সেন্টারে উপস্থিত করার জন্য আগে থেকে নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন। সেই সাথে উক্ত রোগীদের যাতায়াত, খাওয়া দাওয়াসহ সমস্ত ব্যয় বহন করার জন্যও ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল হেলথ সেন্টারকে বলা হয়েছে। আজ দুপুরে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি চুয়াডাঙ্গা পৌছে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে বিএমডিসির তদন্ত কমিটি এক দিনের তদন্ত কাজ গতকাল বুধবার দুপুরে সম্পন্ন করেছে। এই তদন্ত রিপোর্ট খুব দ্রুত তারা ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন। অপর দিকে সিভিল সার্জন গঠিত তদন্ত কমিটি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন। `` এছাড়া বিএমডিসির তদন্ত দল ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে রোগিদের সাথে কথা বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও অপারেশন থিয়েটর ঘুরে দেখেন। বিএমডিসির তদন্ত দলের দুই সদস্য হলেন- বিএমডিসির খুলনা বিভাগীয় সদস্য ও বিএমএর সহ-সভাপতি ডা. বাহারুল আলম ও খুলনা বিভাগীয় ও এসবির সভাপতি ও গাজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মনোজ বসু। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি আজ ৫ এপ্রিল দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌছুবে। ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট) মো. মিজানুর রহমানকে। কমিটির সদস্য সচিব করা হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল-২’র উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলামকে। কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক (চক্ষু) ডা. সাইফুল্লাহ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ বিন শহিদ ও মহাখালীর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, ৫ এপ্রিল ওই কমিটি চুয়াডাঙ্গায় ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে তদন্তে আসবে। ওইদিন ক্ষতিগ্রস্ত সকল রোগীকে হাসপাতালে তদন্তদলের কাছে উপস্থিত করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের এ তদন্তটিম আগামী ১২ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, চুয়াডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করে ‘জীবন তরী’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০ জন রোগীর চোখ অন্ধ করে দিয়েছে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য অচিরেই ওই হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। গতকাল বুধবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে মডেল ফার্মেসি উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ওষুধ মানুষের জীবন বাঁচায়। কিন্তু দেশে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা দোকানে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া পৃথিবীর কোথাও ওষুধ বিক্রি হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে হয়। এটা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। কোনোভাবেই যেন ফার্মেসিতে নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। দেশে এখন মডেল ফার্মেসি গড়ে উঠছে। এসব ফার্মেসির মান বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, দেশে ওষুধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে শিগগিরই দেড় হাজার ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা এখন ১৫০টা দেশে ওষুধ রফতানি করছি। দেশের ওষুধের চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। দাম কম হওয়ার কারণে আমেরিকার মতো দেশেও আমাদের ওষুধের চাহিদা রয়েছে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এমডি ওবায়দুল মোক্তাদির, ফার্মেসি কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন, ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব মো. শফিউজ্জামান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মে. জে. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প ক্রমেই উন্নতির দিকে যাচ্ছে। এখন আমাদের পর্যাপ্ত ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন। তবে অবশ্যই তাদের হতে হবে উচ্চমানসম্পন্ন, গড়পড়তা মানের নয়। দেশে এখনো দেড় লাখ অনিবন্ধিত ওষুধের দোকান রয়েছে। যেখানে মান নিয়ন্ত্রণ না করেই যথেচ্ছভাবে ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকান ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিতে হবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে ফার্মাসিস্টদের মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের কেদারগঞ্জেপাড়ায় ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে গত ৫ মার্চ ২৪ রোগীর চোখে ছানির অপারেশন করা হয়। পরবর্তীতে তীব্র যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েন তারা। ২০ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে ২০ নারী-পুরুষের ইনফেকশনের চোখগুলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল থেকে তুলে ফেলতে হয়েছে। অরো-ব্লু নামক ভারতীয় একটি ওষুধের ব্যাকটেরিয়া থেকে এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধারণা করে। গত ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সিভিল সার্জন ডা. খাইরুল বাসার ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। একই দিন হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সকল কার্যক্রম বন্ধ করেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত শাহপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জিয়াউর রহমান