পরীক্ষা হলে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা : মেহেরপুরে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সভা
- আপলোড তারিখঃ
০২-০৪-২০১৮
ইং
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ : চুয়াডাঙ্গায় পরীক্ষার্থী ৯০৮৬
নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশের ন্যায় একযোগে চুয়াডাঙ্গা জেলায়ও ২০১৮ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং আলিম পরীক্ষা আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্ব্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারও জেলার ২০টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। এরমধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে ৭ হাজার ২৬৭ জন, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ১৬০ জন, এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) ১ হাজার ২৬৪জন এবং আলিম পরীক্ষায় ৩৯৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। গতবারের তুলনায় এবার সবমিলিয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১ হাজার ১৩৬ জন; গত বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ২২২জন।
এ বছর চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ৬৬০ জন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ১ হাজার ১৪৫ জন, চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজে কেন্দ্রে ৬৮৮ জন এবং বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ৫০০ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ৬১৩ জন, আলমডাঙ্গা মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২৯৮ জন এবং এমএস জোহা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ৭৫৭ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। দামুড়হুদার দর্শনা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ৯৩৪ জন এবং আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ১ হাজার ২৬ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। জীবননগর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ৪৬৫ জন এবং জীবননগর আদর্শ মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ১৮১ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ১৬০ জন এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২৮১ জন, মুন্সিগঞ্জ নিগার সিদ্দিক কলেজ কেন্দ্রে ৪৯৪ জন, এমএস জোহা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ৪৬৩জন, আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ১৩২ জন এবং জীবননগর আদর্শ মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ২৩৪ জন এইচএসসি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। আলিম পরীক্ষায় চুয়াডাঙ্গা ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে ১৭২ জন, আলমডাঙ্গা আলিম মাদরাসা কেন্দ্রে ১০২ জন এবং জীবননগর আলিম মাদরাসা কেন্দ্রে ১২২ জন অংশগ্রহণ করবে।
সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকল মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে সর্ব্বোচ্চ প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নকলমুক্ত সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সৃশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হবে। এজন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং যে যার জায়গা থেকে সহযোগিতা করতে হবে। প্রশ্ন পত্রের সর্ব্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ জেলা থেকে কোন ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের তীল পরিমাণ সুযোগ নেই। এরপরেও যদি কেউ বা কাউকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে সর্ব্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স।
এ ছাড়া প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি থাকবে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে। সদর উপজেলার কেন্দ্রসমূহে অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্ট্রেট এবং অন্য উপজেলায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারা জারি করবেন। কেন্দ্রের চারিদিকে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকা লাল পতাকার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। কোনো পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কেউ মোবাইলফোন সাথে আনতে পারবে না। যদি মোবাইলফোন পাওয়া যায় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে সকল কক্ষে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক পাখা সচল রাখাসহ এ বছর সকল কেন্দ্রে এবং হলরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক পরীক্ষা কার্যক্রমের উপর নজর রাখবেন। গত ১৪/০৩/১৮ তারিখে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে আলোচনা সভা ও জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সাথে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকার রবিবার সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ’র সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় কুমার চাকী, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান প্রমুখ। এসময় জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে পরীক্ষার হলে কোন ধরণের নেতা প্রবেশ করতে পারবে না। তিনি বলেন, সে যে ধরণের নেতাই হোকনা কেন পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে হলে প্রবেশ করতে পারবে না। ভিডিও কনফারেন্স এ জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসিদের তিনি এ নিদের্শনা দেন। একই সাথে তিনি পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে কোচিং সেন্টার খোলা না রাখার ব্যাপারে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
কমেন্ট বক্স