শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

প্রশাসনকে পা’ফাটা চাঁন মিয়াদের সাধুবাদ!

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৩-২০১৮ ইং
প্রশাসনকে পা’ফাটা চাঁন মিয়াদের সাধুবাদ!
চুয়াডাঙ্গায় নজিরবিহীন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ইউপি নির্বাচন এসএম শাফায়েত: ‘বয়স হয়েচে বাপ, লাঠি ভর দিয়ে হেটে চলে বেড়াই। সেই কবে রাজার ভোট দিইচি! আর আজ দিলাম। বেঁচে থাকতি এরাম শান্তিপুন্নু পরিবেশে ভোট দিতি পারবো ভাবতিই পারিনি। এই সুযুগ করি দিয়ার জন্নি ধন্যবাদ জানাচ্চি ডিসি সাহেপ আর এসপি সাহেপকে। তারা মনে করলি কী না করতি পারে; এই ভোটের মদ্দি দিয়ে দেকি দিল। একুন রিজাল্ট দিলি বুজা যাবে ভোট কিরাম হলো’। কথাগুলো পড়ে ভিমড়ি খেলেন সম্মানিত পাঠক। হ্যাঁ; চার কুড়ি পেরানো (৮০ বছর) চাচা মিয়ার কথা শুনে আমিও হতবাক হয়ে ছিলাম। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটার। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় বলেশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে ফেরার পথে পুকুর পাড়ে দেখা হয় তার সাথে। কথা প্রসঙ্গে উপরোক্ত কথাগুলো বলে তিনি। চাচা মিয়া আপনার নাম কী? প্রশ্নের উত্তরে জানা যায় তাঁর নাম ‘চাঁন মিয়া’। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে এমন অসংখ্যা পা’ফাটা (গ্রাম্য উক্তি) চাঁন মিয়াদের আত্মতৃপ্তির ফুরফুরে মেজাজ লক্ষ্য করা যায় নির্বাচনী এলাকা ঘুরে। সকলেই এ নির্বাচন নজিরবিহীন স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে দাবি করে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন অফিসারকে সাধুবাদ জানান। এলাকাঘুরে ও ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ইতিহাসে এতটা স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভোটগ্রহণ অতীতে কেউ দেখেছে বলে মনে হয় না। ভোটাররা নির্বিঘেœ, নির্ভয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছে; এটা তাদের আত্মতৃপ্তি। ভোট গ্রহণকালীন সময়ে কেন্দ্র ও তার আশপাশ এলাকাগুলোতে ছিলো নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ এক নজিরবিহীন স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের চিত্র। নাগদহ ইউনিয়নের সর্ব্বোচ্চ ভোটার সমৃদ্ধ নাগদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভেতরে সাধারণ ভোটার, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেয়া হয়নি। এক কথাই ভেতরে বেশ পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। তবে কেন্দ্রের বাইরে ছিলো উৎসবমুখর পরিবেশ। দু’একটি গ্রুপ ছাড়া সকল প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ছিলো। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। শুধু নাগদহ কেন্দ্রই নয়; সকল কেন্দ্রেই ছিল সমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচনী এলাকায় সরব দৃষ্টিতে দেখা যায় ৬-বিজিবি ও র‌্যাব-৬ সদস্যদেরকে। গতকাল বৃহস্পতিবার ২৯ মার্চ দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার দুই ইউপি ও জীবননগর উপজেলার তিন ইউপিতে নির্বাচনও সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সর্বশেষ সময় থাকলেও এর অনেক আগেই ভোট দেয়া শেষ হয়ে যায় ৭৫ শতাংশ ভোটারের। এ দুটি ইউনিয়নের স্থায়ী ও অস্থায়ী ১৮টি কেন্দ্রে ভোটাররা সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়ায়। কয়েকটি কেন্দ্রে এক হাজারেরও কম ভোটার হওয়ায় দুপুরের মধ্যেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের চাপ কমে যায়। অন্য কেন্দ্রগুলোতে বিকাল পর্যন্তও ভোটারদের ভোট দিতে দেখা যায়। অর্থাৎ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিলো। তবে ভোট গণনা শুরু হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী বিকাল ৪টার পর। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটগণনা শেষে সেখানেই প্রাথমিত ঘোষণা এবং পরে রিটার্নিং অফিসারের কন্ট্রোল রুম, আলমডাঙ্গা থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ উপজেলার নাগদহ ইউনিয়নের ১২ হাজার ৬১৭ জন ভোটারের মধ্যে ১১ হাজার ৩৫ জন ভোটার তাদের নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এ ইউনিয়নে ভোটদানের শতকরা হার ৮৭ শতাংশ। অপরদিকে আইলহাঁস ইউনিয়নে ১১ হাজার ৯৪১ জন ভোটারের মধ্যে ১০ হাজার ৪৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এ ইউনিয়নে ভোটদানের শতকরা হার ৮৮ শতাংশ।


কমেন্ট বক্স
notebook

অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত শাহপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জিয়াউর রহমান