শেষ হলো প্রচারণা : ভোটগ্রহন কাল : কঠোর অবস্থানে ইসি
- আপলোড তারিখঃ
২৮-০৩-২০১৮
ইং
জীবননগরের হাসাদাহ রায়পুর বাঁকা আলমডাঙ্গার নাগদাহ ও আইলহাঁস ইউপি নির্বাচন
অঙ্কন মল্লিক/ফেরদৌস ওয়াহিদ: রাত পোহালেই ভোটের লড়াই। উৎসব-উত্তেজনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। জীবননগর উপজেলার তিন ইউপি রায়পুর, হাসাদাহ, বাঁকা ও আলমডাঙ্গার উপজেলার দুই ইউপি নাগদাহ ও আইলহাঁস ইউপি’র প্রতিনিধি নির্বাচনের অপেক্ষায় ৬১ হাজার ১৩৯ জন ভোটার। এছাড়াও একইসাথে দেশের ১৩১টি ইউপি, পৌরসভা, উপ-নির্বাচন অনুাষ্ঠত হচ্ছে। প্রস্তুত নির্বাচন কমিশনও। ইতিমধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ইতি টেনেছেন। দলীয় প্রতীকের এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের প্রার্থীদেরকে ঘিরেই এখন চলছে স্নায়ুযুদ্ধ। নির্বাচনী লড়াইয়ে ব্যক্তি ইমেজ ও আত্মীয়তার বন্ধনই প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি। দলীয় প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনিত প্রার্থীরা স্বস্তিতে থাকলেও তাদের ঘাড়ের উপর গরম নিশ্বাস ফেলছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার এড়াতে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। এখন শুধু রাত পোহানোর অপেক্ষা। কাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এসব ইউনিয়নে ভোট উৎসব শুরু হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যও নামানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতেই শেষ হয়েছে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। একই সঙ্গে বন্ধ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের যান্ত্রিক যান চলাচল।
জানা যায়, এ নির্বাচনে পাঁচ ইউপিতে মোট ৬১ হাজার ১৩৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩০ হাজার ৬৫৮ জন এবং নারী ভোটার ৩০ হাজার ৪৭৮ জন। নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমানে ৫টি চেয়ারম্যান পদে ২১ জন, ১৫টি সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫২ জন এবং ৪৫টি সাধারণ সদস্য পদে ২’শ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। পাঁচ ইউপির মোট ৪৫ কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে এসব ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্থানে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছে সরকারদলীয় প্রার্থীর কর্মীরা মর্মে অভিযোগ উঠেছে। নিষেধ অমান্য করে কেন্দ্রে গেলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেয়া হচ্ছে ভোটারদের। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ন্যাশনাল আইডি কার্ড চেয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন। এ নিয়ে আতঙ্ক ভোটারদের মাঝে। এভাবে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। ঘরে ঘরে গিয়ে নিজেদের প্রার্থীকে ভোট দিতে নানাভাবে হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোটের দিন কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিসার রাজু আহম্মেদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধ পরিকর। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহনযোগ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রয়োগে আমাদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়াও নির্বাচনে সহিংসতা ও নাশকতা এড়াতে পুলিশ, আনসার, বিজিবি সদস্যদের সাথে অতিরিক্ত আরো স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। ভোটগ্রহনের দিন কোনো কেন্দ্রে সহিংসতার খবর পেলে আমরা সাথে সাথে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহন স্থগিত করব।
এদিকে, ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা হতে ভোটগ্রহণের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ ৩১ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে এবং কোনো ব্যক্তি মিছিল বা শোভাযাত্রা সংগঠিত করতে বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না। ইসির এই কর্মকর্তা আরো জানান, এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। জেলায় জেলায় নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে গেছে। ভোটের আগের রাতে সেগুলো কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, ভোটের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত বেবিটেক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো প্রভৃতি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী তিন দিন থেকে ভোটগ্রহণের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। এছাড়া ভোটের দিনের পূর্ববর্তী রাত অর্থাৎ বুধবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ, ইঞ্জিন চালিত সকল ধরনের নৌ-যান ও স্পিটবোট চলাচল করতে পারবে না। তবে জনগণ বা ভোটারদের চলাচলের জন্য ক্ষুদ্র নৌযান চলাচল নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখতে বলা হয়েছে বলেও জানান আসাদুজ্জামান। তিনি আরো জানান, এসব নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আচরণবিধিমালা প্রতিপালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসি। এছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স