কৌশল পাল্টাচ্ছে ২ দলই; নির্বাচনের প্রস্তুতি বিএনপিতে : আজ যৌথসভা
- আপলোড তারিখঃ
২২-০৩-২০১৮
ইং
সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ৩৭টি টিম গঠন : বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক
ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন দেড় মাস ধরে। তার দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে দলটি। তবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করে নির্বাচনে যাওয়াও বিএনপির লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সারা দেশের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার সাজা ও জামিনের বিষয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি নেতারা। এছাড়াও আগামী নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়ও তাঁদের কাছে তুলে ধরা হয়। তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো জোরদার করা অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে ফের ৩৭টি টিম গঠন করা হয়েছে। দল নেতারা খুব দ্রুত জেলা সফরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু করবেন। আজ বৃহস্পতিবার চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের যৌথসভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরা উপস্থিত থাকবেন। দিন যত গড়াচ্ছে, স্পষ্ট হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বাস্তবতা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ভেতর ও বাইরে নানাভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে আসছে। আলোচনা হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসঙ্গ। সে জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি যেমন নিচ্ছে দল দুটি; তেমনি আঁটছে নির্বাচনী রাজনীতির নানা কৌশল। একদিকে, আওয়ামী লীগ চাইছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে। অন্যদিকে, বিএনপিও চাইছে নির্বাচনে অংশ নিতে। তবে দলের মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা। দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে এক ধরনের ইতিবাচক ধারণা মিলেছে। সরকার, নির্বাচন কমিশন (ইসি), ক্ষমতাসীন দল ও শরিকদের বিভিন্ন বক্তব্য, বিএনপির নমনীয় অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানা পরামর্শ ও আকাক্সক্ষা প্রকাশের মধ্য দিয়ে এমন নির্বাচনের আভাস মিলছে। বিশেষ করে সরকার এ ব্যাপারে তাদের সদিচ্ছা আরো স্পষ্ট করেছে। এ ধরনের নির্বাচন ঘিরে যে সংকট, তা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলে তৎপরতাও শুরু করেছে। সরকার চাইছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠেয় আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দলকে আনতে। এ জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ নানা পর্যায়ে ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানানো হচ্ছে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ ছাড়া তারা এবারও নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু দুর্নীতির দায়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর সে অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। এই মুহূর্তে দলটি নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি কৌশলে এড়িয়ে খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার অবস্থান জানান দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নীতি নির্ধারণী মহলে কথা বলে ও দলীয় সূত্র থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে দলের এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তবে দল দুটির নেতারা নির্বাচনী রাজনীতির কৌশল নিয়ে খোলামেলা কিছু বলেননি। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সাংবিধানিকভাবে যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। ইসি তার দায়িত্ব পালন করছে। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশ নেয় তাহলে সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। অপরদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে। আমরা আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনব এবং তাকে নিয়েই আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। জানা যায়, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি আদায়ে উপজেলা পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বিভাগীয় ও জেলা শহরে সমাবেশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আন্দোলন সফলে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠ নেতাদের বার্তা দিতে তৃণমূল সফর শুরু করবেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে আগামী জুলাই-আগস্ট নাগাদ চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতে চান। বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাদের দাবি আদায় হবে। এ দিকে তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো জোরদার করা অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে ফের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে কেন্দ্রীয় ও সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ৩৭টি টিম গঠন করা হয়েছে। নির্দেশনা মোতাবেক ২২ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দলনেতাদের জেলা ও মহানগর সফর শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং যুগ্ম মহাসচিবদের টিম লিডার করা হয়েছে। এসব টিমের নেতারা দেশব্যাপী ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা সফর করবেন। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার দলনেতাদের যৌথসভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর দিনক্ষণ নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট দল নেতারা জেলা সফরে যাবেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী করার জন্য আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে ৩৭টি টিম গঠন করেছি। তারা খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট এলাকা সফর করে কর্মিসভা করবেন। জানা গেছে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সে লক্ষ্যে সারা দেশের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া শুরু হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় ও সিনিয়র নেতারা আগামী মাসের শুরুর দিকে জেলা সফরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তবে আগামী নির্বাচনে যারাই দলের প্রার্থী হবেন তাদের নিজ নিজ এলাকায় যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। অতীতে যারা একাধিকবার নির্বাচন করে কোনো একবার পরাজিত হয়েছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে যারা প্রথমবারের মতো নির্বাচন করেছেন এবং আগামী নির্বাচনে যারা নতুন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তাদের সবাইকে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। আগামী নির্বাচনে ঠিক কী কারণে আবারো প্রার্থী হিসেবে নিজেকে যোগ্য মনে করেন তা ব্যাখ্যা করতে হবে। কেননা আগামী নির্বাচনে শুধু বিএনপি থেকেই নয়, বিশদলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দল থেকেও আগামী নির্বাচনে এমপি প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। যে কারণেই উল্লিখিত বিষয়গুলো সামনে রেখে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি নিয়ে আমরা জনগণের কাছে যাবো। এই দুই দাবি আদায়ে আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আছি। তারই অংশ হিসেবে আমরা বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সমাবেশ করব। সেই ব্যাপারে পরিকল্পনা চলছে। বিভাগীয় শহরে সমাবেশ শেষে প্রথমে বৃহত্তর জেলাগুলোতে সমাবেশ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সব জেলায় সমাবেশ হবে। সবশেষে উপজেলাপর্যায়েও আমরা সমাবেশ করব। জনগণকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দাবি আদায় করা হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।
কমেন্ট বক্স