শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বেপরোয়া কোচিং বাণিজ্যে ক্লাসে শিক্ষার্থী সংকট : জেলা মনিটরিং কমিটির কার্যক্রমে ধীরগতি

  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৩-২০১৮ ইং
বেপরোয়া কোচিং বাণিজ্যে ক্লাসে শিক্ষার্থী সংকট : জেলা মনিটরিং কমিটির কার্যক্রমে ধীরগতি
চুয়াডাঙ্গা শহরের অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অবৈধ কোচিং সেন্টার ও টিউটোরিয়াল হোম অঙ্কন মল্লিক/ফেরদৌস ওয়াহিদ: বেপরোয়া কোচিং বাণিজ্যের প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থী সংকটে পড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে কোচিং এ ক্লাস নেয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে কলেজ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতির সংখ্যা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কোচিং মালিকেরা শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে চটকদার প্রচারণা এবং কোচিং মনিটরিং কমিটির কার্যক্রম না থাকায় এ সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। তবে অভিভাবকদের বক্তব্য স্কুলে ঠিকমত ক্লাস হয় না, যে কারণ তারা সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই কোচিং সেন্টারে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার চুয়াডাঙ্গা শহরে অলিতে গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টারে অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে লিপ্ত হচ্ছে। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে শিক্ষা প্রদানের নামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেও এদের বিরুদ্ধে তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না প্রশাসন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহর ও উপজেলাগুলোয় কোচিং বাণিজ্য এখন বেশ জমজমাট। শহরের ভিজে সরকারি স্কুল রোড, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রোড, সরকারী কলেজ রোড, আদর্শ সরকারী মহিলা কলেজ রোড, নতুন বাজার, ঝিনাইদহ রোড, একাডেমী মোড়, আলমডাঙ্গা রোড, শহরের সিনেমা হল পাড়া, গুলশানপাড়া ও পৗর কলেজ পাড়া এলাকায় রয়েছে শতাধিক কোচিং সেন্টার ও টিউটোরিয়াল হোম। এসব কোচিং সেন্টারে প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট, উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সাধারণ পাঠদান কোচিং করানো হয়। অভিভাবক, কলেজ শিক্ষক ও কোচিং-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা শহরের কোচিং সেন্টার ও টিউটোরিয়াল হোমগুলোয় পাঠদান করেন অনেক পেশাদার ও খ-কালীন শিক্ষক। বিভিন্ন কলেজে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বাড়তি আয়ের জন্য এখানে পড়ান। কিছু কোচিং আছে, যেগুলো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা করেন। প্রাথমিকের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ে মোটা অংকের টাকা নেয়া হয়। অনেক স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা সরাসরি এসব কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। শহরের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, কলেজে সব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো করে বুঝতে পারে না। কোচিং সেন্টারে সব বিষয়ে বিশেষ করে ইংরেজি ও বিজ্ঞান ও কমার্স বিভাগে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। তাছাড়া ঘন ঘন পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই হয়। সেজন্য কোচিং সেন্টারের প্রতি সবার আগ্রহ বেশি। শুধু জেলা শহর নয় চুয়াডাঙ্গার ৪টি উপজেলায় একই অবস্থা। জীবননগর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক কোচিং সেন্টার রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অনুমোদনবিহীন এসব কোচিং সেন্টারের মধ্যে কয়েকটি কোচিং সেন্টার চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিল। তবে চলতি বছরে এর কোনটি নবায়ন করা হয়নি। এসব কোচিং সেন্টারে শিশু থেকে শুরু করে মাস্টার্স কোচিং ক্লাস, সকল প্রকার নিয়োগ কোচিং, ভর্তি কোচিং করানো হয়। যার সকল ক্লাস বিদ্যালয় বা কলেজ চলাকালে নেয়া হয়ে থাকে। এসব কোচিং সেন্টারে গুলো মধ্যে অধিকাংশ কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িত রয়েছে কোন না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। যা সরকারি নীতিমালার সম্পূর্ণ বিরোধী। আবার এসব কোচিং সেন্টারের আড়ালে অনেক সময় অসামাজিক কার্যকলাপও করা হয়ে থাকে। কোচিং ক্লাসের নামে অসামাজিক কাজ করলেও নজরদারি নেই প্রশাসনের। র্দীঘদিন কোনো মনিটরিং না থাকায় নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে শহরের অলিতে গলিতে গড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টারে অপরাধ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব কোচিং সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফরম পূরণের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করার পরও অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী প্রতারণার শিকার হয়। এমনকি অনেক সময় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না শিক্ষর্থীরা। অবৈধ এসব কোচিং সেন্টার গুলো বন্ধের দাবি সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টারে তাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত নাম ঠিকানা পরিচয়, শিক্ষার্থীদের তালিকা এর কোনটি নেই। এমনকি কোচিং নীতিমালা ভঙ্গকরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস চলাকালীন সময়েই শিক্ষার্থীদের কোচিং ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। র্দীঘদিন যাবত এভাবে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য চালালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। এমনটি কোচিং নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো মনিটরিং ও করা হচ্ছে না। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কোচিং সেন্টারগুলোর মধ্যে অধিকাংশ কোচিং সেন্টারের সাথে সরকরি বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা জড়িত রয়েছে। যা কোচিং বাণিজ্য নীতিমালা বিরোধী। আবার কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা জন্য কোন প্রকার পোস্টারিং, লিফলেট, ফেস্টুন, ব্যানার, দেয়াল লিখন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ না করা অথবা কোচিং সেন্টারের নামে বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা যাবেনা নীতিমালায় উল্লেখ থাকলেও সে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বাড়ির মালিকরা কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করার জন্য সহজ শর্তে বাড়ি ভাড়া দিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালান করতে সহযোগিতা করছে। বাড়ি ভাড়া দিয়ে যে সব বাড়ির মালিক কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করতে সহযোগিতা করছে তাদের বিরুদ্ধেও আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী সংশ্লিষ্ট অনেকেরই। এমন কি শহরের সকল স্থানে সৌন্দয্য নষ্ট করে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কোচিং সেন্টারের পোস্টারিং, লিফলেট, ফেস্টুন, ব্যানার, দেয়াল লিখন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে অবৈধভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ সবই প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটে চলেও কোন কর্ণপাত নেই প্রশাসনের। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের উপ-অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মজিদ প্রামাণিকের সাথে কথা বলে ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা কম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিতি কম হয়। বিশেষ করে সাইন্স ও কমার্র্স বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি একেবারেই কম। তারা কলেজে ক্লাসের পরিবর্তে কোচিং সেন্টারে ক্লাস করে বলে জেনেছি। কয়েকবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কলেজে ডেকে এ সম্পর্কে অবগত করলেও এ সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। কলেজের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে যথাযথভাবেই ক্লাস গ্রহন করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করে কোচিং সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করলেই কেবল এ সমস্যা থেকে উত্তরণ পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদের সাথে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্কুল/কলেজ চলাকালীন সময়ে কোচিং সেন্টার চালু রাখার কোনো নির্দেশনা নেয়। কাজেই যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত শাহপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জিয়াউর রহমান