শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

যেভাবে বিজিবি’র হাতে আটক হলো ৮ চোরকারবারীকে

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৩-২০১৮ ইং
যেভাবে বিজিবি’র হাতে আটক হলো ৮ চোরকারবারীকে
নিজস্ব প্রতিবেদক: দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টসহ আশপাশ এলাকায় চোরাকারবারীদের দৌরাত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজিবি ও কাস্টমস’র চোখ ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণের চালান পাচার হয়ে ভারতে গিয়ে, দেশে ঢুকছে বিপুল পরিমাণ ইউএস ডলার ও ভারতীয় মুদ্রা। এর পিছনে কাজ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকটি চক্রসহ ঢাকার একটি চক্র। প্রতিদিনই এ সীমান্ত দিয়ে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী ট্রেন ও চেকপোস্ট হয়ে ১ থেকে দেড় হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে যাতায়াত করে। তাদের প্রত্যেকের কাছেই ছোট খাটো ব্যাগসহ কম বেশি মালামাল থাকে। যা কাস্টমস ও বিজিবি কর্তৃক তল্লাশী করা হয়। এরমধ্যেই একটি চক্রের পাসপোর্টধারী সদস্যরা প্রায় প্রতিদিনই লাগেজ, স্কুল ব্যাগ ও সাইডব্যাগ নিয়ে যাতায়াত করে। এরপর থেকে গোয়েন্দা তদন্তে নামে সীমান্ত পথে অবৈধ চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অভিযানের সহায়তাকারী (সোর্স) ও বিজিবি সদস্যরা। গতকাল রোববার সকাল ৭টায় ৬ বিজিবি’র পরিচালক লে. কর্ণেল ইমাম হাসানের নির্দেশনায় নায়েক রাসেল শিকদারের নেতৃত্বে বিশেষ টহল দল দামুড়হুদা থানার অর্ন্তগত জোড়াবটতলা নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১১টি লাগেজসহ ৮ জনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ০৭টি লাগেজ ও ৪টি ব্যাগ তল্লাশী করা হয়। ওই ০৭টি লাগেজে শাড়ী-কাপড় ও প্রসাধনী সামগ্রি নেয়া হয়েছিল এবং ৪টি ব্যাগে নেয়া হয়েছিল তাদের ব্যবহৃত জামাকাপড় ও প্রসাধনী। প্রথমত বোঝার উপায় ছিল না এই ব্যাগ চারটিতেই রয়েছে প্রায় দু’কোটি টাকা মূল্যের মার্কিন/ইউএসএ ডলার। ব্যাগের পিছনের অংশে সেলাই করে সাদা কাগজে মুড়িয়ে বিশেষ কৌশলে রাখা ডলারগুলো পেতে একটু বেগ পেতে হয় বিজিবি সদস্যদের। পরে সন্দেহজনক ভাবে সেলাই করা অংশের কাপড় কেটে ৪টি ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় ২ লক্ষ ১৬ হাজার ২০০ ইউএস ডলার; যা বাংলাদেশি টাকায় ১ কোটি ৭৯ লক্ষ ৮৩ হাজার ৫১৬ টাকার সমপরিমাণ। ডলার বা টাকার বান্ডিল করে রাখলে তা সহজে বুঝে ফেলার উপায় না রাখতে সাদা কাগজে ৩৫টি বান্ডিলে আলাদা আলাদা ভাবে ডলারগুলো নেয়া হয়। প্রতিটি ব্যাগে ৫০ হাজারের মত ডলার ছিল। এ ছাড়া তাদের দেহ তল্লাশী করে ৫ হাজার ৯০০ ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়। যা বাংলাদেশী নগদ ৩৯ হাজার ৭৬০ টাকার সমপরিমাণ। এ ছাড়াও আটককৃতদের বাকী ৭টি ল্যাগেজ তল্লাশী করে ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৪০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরণের ভারতীয় মালামাল পাওয়া যায়। এরমধ্যে রয়েছে ভারতীয় উন্নতমানের ২৭ টি পাঞ্জাবী, ১৮ টি শার্ট, ১৬ টি জিন্সের প্যান্ট, ১৬ টি কাতান শাড়ি, ৩০ টি থ্রীপিস, ২১টি ওয়ান পিস, ১১০টি ব্রা, ১৬ মিটার থান কাপড়, ৪৬ টি পন্ডস্ ফেসওয়াশ, ০১ কেজি কাজু বাদাম, ০২ প্যাকেট ট্যাং, ০১ বাটি বিস্কুট (গারমেট), ০২ প্যাকেট সার্ফ এক্সেল (০১ কেজি), ১টি ইলেকট্রিক ক্যালেন্ডার। আটককৃত ডলার ও মালামালের সর্বমোট মূল্য ১ কোটি ৮৭ লক্ষ ০৩ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চোরাকারবারী শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ইশ্বরকাঠী গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৪৮), মাদারীপুর জেলা সদরের কেন্দুয়া শ্রীনাদি গ্রামের বাদশা মাতাব্বরের ছেলে উজ্জ্বল আহমেদ (৩১), ঢাকা শ্যামপুরের হাবিবুর রহমানের ছেলে আনিসুর রহমান (২৯), একই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে আতিকুল রহমান (৩১), মাদারীপুর শিবচর উপজেলার জাদুয়ারচর গ্রামের মৃত সামাদ মুন্সির ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর উপজেলার বিশ্বম্ভবদী গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হেদায়েত আলী (৪০), মাদারীপুর রাজৈর শংকরদী গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল হান্নান (৩৮) ও লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বাহাদুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আল আমিনকে (২৮) আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ান সদর দপ্তরে নেয়া হয়। ডলারভর্তি ব্যাগগুলো চোরাকাবারি দলের অন্যতম সদস্য মিজানুর রহমান, আনিসুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক ও আলামিন হোসেনের হলেও; বাকীরাও এই চক্রের সদস্য বলে অকপটে স্বীকার করে। উদ্ধারকৃত ইউএস ডলার চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারী অফিসে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন ছিল এবং আটককৃত ব্যক্তিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত শাহপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জিয়াউর রহমান