চুয়াডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গোয়েন্দা পুলিশ ও দর্শনা পুলিশের পৃথক অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও দর্শনায় পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ পাঁচজনকে আটক হয়েছে। এ সময় ৭০ অ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ৯৪ বোতল ফেনসিডিল ও ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গতকাল রোববার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের গুলশানপাড়া থেকে চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী নুর আলমকে নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সন্ধ্যায় দর্শনা-মুজিবনগর সড়কে অভিযান চালিয়ে ফেনসিডিলসহ তিনজনকে আটক করে দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। রাত ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ একই এলাকার মাজেদুল ইসলাম তুষারকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গতকালই আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলাসহ সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসলাম হোসেনের নেতৃত্বে শহরের গুলশানপাড়ায় অভিযান চালানো হয়। গতকাল রোববার বিকেলে গুলশানপাড়ার মৃত বছির মিয়ার ছেলে নুর আলমের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। এ সময় চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী নুর আলম বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাকে আটক করা হয়। এ সমম নুর আলমকে তল্লাশী করে ৭০ অ্যাম্পুল নেশাজাতীয় বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। পরে মাদকব্যবসায়ী নুর আলমকে (৪০) আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে নেয়া হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসলাম হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করেন পরিদর্শক বিশ্বাস মফিজুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ, সহকারি উপ-পরিদর্শক আকবার হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স। এ ঘটনায় আটককৃত নুর আলমের বিরুদ্ধে উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। গতকালই তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। নুর আলম ওরফে অ্যাসিড আলম চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দৌলতদিয়াড়ে অভিযান চালিয়ে ১০পিস ইয়াবাসহ মাজেদুল ইসলাম তুষার (২৩) নামের এক যুবককে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মাজেদুল ইসলাম তুষার চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের আব্দুল মান্নানের ছেলে। জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আশরাফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড়ে অভিযান চালায়। এসময় মাজেদুল ইসলাম তুষার নামের এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১০পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। আটককৃত তুষারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা দায়ের করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, দর্শনা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ফেনসিডিলসহ তিনজনকে আটক করেছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যার দিকে দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের বোয়লমারী থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় ট্রাক তল্লাশী করে ৯৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। একইসাথে পাচারকাজে ব্যবহৃত মিনি ট্রাকও জব্দ করা হয়। আটককৃতরা হলো, কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালির মিনাজ, বাবরহাট এলাকার সবুজ আলী ও চালক বড়বাজার রকসি গলির শরিফুল। আটককৃতদের দামুড়হুদা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নবাগত ইনচার্জ এসআই শফিকুর রহমান শফিকের নির্দেশে এসআই মিজান, এএসআই লাবলু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদক বিরোধী অভিযান চালায় দর্শনা-মুজিবনগর সড়কের বোয়ালমারী নামক স্থানে। এসময় মুজিবনগর অভিমুখ হতে আসা (যশোর-ন ১১-০৩৭১) একটি মিনি ট্রাকের গতিরোধ করে পুলিশ। পরে ট্রাকটিতে তল্লাশী চালিয়ে ৯৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। সেই সাথে ট্রাকের চালক কুষ্টিয়া জেলা শহরের বড়বাজার রকসী গলির মৃত আলী হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৮), ট্রাকে থাকা কুষ্টিয়া কুমারখালির মৃত রওশন আলীর ছেলে মিনাজ আলী (৩৫) ও বাবরহাট এলাকার আজিবর আলীর ছেলে সবুজ আলীকে (৩০) আটক করে। এসময় মাদকপাচার কাজে ব্যবহৃত মিনি ট্রাকটি আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে রাতেই মাদক আইনে মামলা দায়ের করে দামুড়হুদা থানায় সোপর্দ করেছে পুলিশ।