অসদচারণের অভিযোগ নার্স তৃষ্ণার বিরুদ্ধে : তদন্ত কমিটি
- আপলোড তারিখঃ
১০-০৩-২০১৮
ইং
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীসহ স্বজনদের সাথে
জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সের নার্স তৃষ্ণার বিরুদ্ধে রোগী ও রোগীর পরিবারকে জিম্মি করে টাকা নেওয়াসহ তাদের সাথে দুর্ব্যাবহারের অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগী সুত্রে জানা যায়, গত (৬ই মার্চ) বুধবার রাত ৪ টার সময় মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা গ্রামের সোহাগের অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী কুলসুম (২২) এর হঠাৎ প্রসব বেদনা বেড়ে গেলে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের জরুরী বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার কুলসুমকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিলেও নার্স তৃষ্ণা রুগীর সাথে থাকা স্বজনদের বলতে থাকে কুলসুম তার সন্তানকে বাঁচাতে হলে তাকে সিজার করতে হবে। তখন রুগীর মা আসুরা খাতুন (৪৫) রুগীর মা ক্লিনিকে নিয়ে সিজার করার মতো সামর্থ্য তাদের নাই বলে জানান। এবং বলে ডা. বললেন এখানেই হবে আর আপনি বলছেন ক্লিনিকে নিতে।
এ কথা শোনা মাত্রই নার্স তৃষ্ণা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অকথ্য ভাষায় কথা বলতে থাকে এক পর্যায়ে রুগীর মাকে ধাক্কা মেরে হাসপাতালের ফ্লোরে ফেলে দিয়ে বলে কুলসুমকে তারা নরমাল ডেলিভারী করাবেন না।
এব্যপারে রোগীর মা আসুরা খাতুন জানান, কুলসুমকে জরুরী বিভাগে আনার পর ডাক্তার তার শারীরিক অবস্থা দেখে আমাদের জানায় ভয়ের কিছুই নাই হাসপাতালেই নর্মাল ডেলিভারী হবে। পরে আমরা হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে আমাদের কাছে থাকা হাসপাতালের ভর্তির কাগজ দেখে বলে কুলসুম ও তার সন্তানকে বাঁচাতে হলে জরুরী ভাবে সিজার করতে হবে কিন্তু হাসপাতালে সিজার হয়না। তাকে ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হবে তখন আমার ডাক্তারের কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে আজে বাজে ভাষা ব্যবহার করতে থাকে আর আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
আমি আমার মেয়ের শারীরিক দিকে তাকিয়ে নার্স তৃষ্ণার হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করতে থাকি একপর্যায়ে আমার মেয়ের সিজার ছাড়াই একটি পুত্র সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু নার্স তৃষ্ণা আমার মেয়েকে নর্মাল ডেলিভারী করিয়েছেন বলে আমার কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে দেরি করাতে আমার সদ্য ভুমিষ্ঠ নাতিকে তারা রক্ত পানি পরিষ্কার না করে রেখে দেন।
আমি পরে অনেক আকুতি মিনতি করে ১হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে পরিষ্কার করে বেডে এনে রাখে। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন নার্স তৃষ্ণা কুলসুমের মাকে গলায় ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে পেলে দিল এবং তাকে একটি চড় মারে এ বিষয়ে কুলসুমের মা প্রতিবাদ করায় তাকে হুমকি প্রদান করে এবং বলে এ বিষয় যদি কারও কাছে বলিসম তাহলে তোদের কারও ছাড় দেওয়া হবে না।
উপজেলা সদরের কয়েকজন সুধী ব্যক্তিবর্গ নার্স তৃষ্ণার প্রসঙ্গে বলেন, একজন নার্স জনগনের সেবক। সেখানে সেবার পরিবর্তে রুগী ও তার অভিভাবকদের সঙ্গে যদি খারাপ আচারণ করেন সেখানে রোগীর চিকিৎসার মান নিয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকে যায়।
এব্যাপারে তৃষ্ণার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি কোন রোগীর নিকট থেকে টাকা গ্রহন করিনি, এমন কি কারও সাথে খারাপ আচারন করিনি, যিনি অভিযোগ করেছে এটি সম্পন্ন মিথ্যা অভিযোগ, যে রোগী নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে এটি আসলে একটা ইমারজেন্সী রোগী ছিল, তার অবস্থা দেখে আমি শুধু আয়াকে বলেছি এই রোগীটার সিজার করলে ভালো হত, এই টুকু আমি বলেছি আর রোগীর মা রক্তমাখা অবস্থায় আমার জড়িয়ে ধরে তাকে শুধু বলেছি আপনি কি করলেন, আমি এই পোশাক পরে নামাজ পড়বো! এই কথা বলে আমি সেখান থেকে চলে আসি।
এব্যাপারে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প.প. কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, চিকিৎসা নিতে আসা রোগী বা তার অভিভাবকের সঙ্গে কোন নার্সের এমন আচরণ কাম্য নয়। আমি জরুরী মিটিংয়ে দুইদিন ব্যাস্ত ছিলাম। বিষয়টি দেখছি।
আজ শনিবার এ বিষয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করে তাদেরকে তদন্তের ভার দেওয়া হবে। তদন্তে নার্স তৃষ্ণার বিরুদ্ধে আনিতে অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে একজন নার্সের রোগীদের সাথে এহেন আচরণ দেখে সাধারন মানুষ হতবাক।
কমেন্ট বক্স