শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কোরবানির পশু বিক্রি নিয়েই খামারিদের শঙ্কা!

  • আপলোড তারিখঃ ১৩-০৭-২০২১ ইং
কোরবানির পশু বিক্রি নিয়েই খামারিদের শঙ্কা!
জীবননগরে বিক্রয় উপযোগী গরু-ছাগলের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ: মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জীবননগরের প্রান্তিক পর্যায়ের গরুর খামারিরা। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যাঁরা একটি বা চার-পাঁচটি গরু পালন করেছেন, তাঁরা এ বছর উপযুক্ত দামে গরু বিক্রি নিয়ে সংশয়ে আছেন। কোরবানি ঈদের আর মাত্র ৮ দিন বাকি। অথচ অন্যান্য বছরের মতো এখন পর্যন্ত দেখা নেই ব্যাপারীদের। কোরবানিযোগ্য পশুপালনকারী খামারিদের প্রত্যাশা ছিল ঈদের আগে হাটে পশু বিক্রি করে মুনাফা করবেন। কিন্তু তাঁদের জন্য ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে মহামারি করোনাভাইরাস। তাঁরা বলছেন, প্রতিবছর কোরবানির হাট শুরুর মাস দেড়েক আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকার গরুর ব্যাপারীরা এসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরু কেনা শুরু করেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এবার গরু কেনায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না ব্যাপারীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, করোনার কারণে বিগত বছরের চেয়ে সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সে অনুযায়ী গরুর দামও বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে জীবননগর উপজেলার একটি মাত্র পশুহাট (শিয়ালমারি) তাও বন্ধ রয়েছে। ফলে গরু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। এদিকে জীবননগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কোরবানিতে জীবননগর উপজেলায় ৪ হাজার ৫১২টি গরু এবং ৩ হাজার ২৭২টি বিক্রি উপযোগী ছাগল রয়েছে। এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে পশু বিক্রি করে ন্যায্যদাম পাওয়া নিয়ে চিন্তায় আছেন খামারিরা। প্রতিটি গরুর জন্য দিনে ১২০-১৬০ টাকা খরচ হয়। প্রতিদিন গরুগুলোকে খৈল, ভুষি, কুঁড়ো ও কাঁচা ঘাস দিতে হয়। এবার গরু বিক্রি করে লাভ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছেন তাঁরা। কিন্তু পশু বিক্রি না করতে পারলে সাত-আটমাস ধরে খাটানো টাকার অনেকটাই লোকসানে যাবে খামারিদের। খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, ‘তিন মাস আগে এক বস্তা গমের ভুষির দাম ছিল ৯ শ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২ শ টাকা। আগে যে খৈলের দাম ছিল ৩০-৩২ টাকা কেজি। করোনাকালে তা কিনতে হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকা দরে। শুধু ভুষি ও খৈলই নয়, সব গো-খাদ্যের দাম গড়ে ২০-২৫ ভাগ বেড়েছে।’ এদিকে গরুর ব্যাপারীরা বলছেন, সারা বছরই গরু কেনাবেচার মধ্যে থাকেন তাঁরা। কোরবানির আগের কিছুদিন সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে গত দুই মাস ধরে নিয়মিত হাট বসছে না। আর কোরবানির আগ মুহূর্তেও হাট বসার সম্ভাবনাও খুবই কম। এমতাবস্থায় কোনোভাবেই ভালো ব্যবসার আশা করছে না তাঁরা। জীবননগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীর আহম্মেদ বলেন, ‘জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কোরবানি উপলক্ষে গরুপালন করে থাকেন খামারিরা। তবে এখন পর্যন্ত বাজার ভালো আছে। আমাদের পক্ষ থেকে পশুপালনকারীদের প্রাকৃতিকভাবে পশু মোটাতাজাকরণে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খামারিরা সেভাবে পশুপালন করেছেন। প্রাকৃতিক উপায়ের তুলনায় রাসায়নিকভাবে মোটাতাজা করলে খরচ বেশি হয় এবং ঝুঁকিও থাকে। গ্রামপর্যায়ে পশু পালনকারীরা এসব বুঝতে পেরেছেন। করোনা মহামারির মধ্যে আমাদের কার্যক্রম এক দিনের জন্যও থেমে থাকেনি। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে পশুহাট বন্ধ থাকায় আমরা অনলাইন পশুহাটের ব্যবস্থা করেছি। আমাদের মাঠকর্মীরা আছেন, তাঁরা প্রতিনিয়িত মাঠে কাজ করছেন এবং কোরবানির পশুর ছবি তুলে আপলোড করছেন।


কমেন্ট বক্স
notebook

মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে টিকে আছে শত বছরের মৃৎশিল্প