শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নীতিমালার কঠিন শর্তের বেড়াজালে নতুন এমপিও

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০৭-২০১৮ ইং
নীতিমালার কঠিন শর্তের বেড়াজালে নতুন এমপিও
ডেস্ক রিপোর্ট: নীতিমালার কঠিন শর্তের আবর্তে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আট বছর এমপিও বন্ধ রেখে নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত অমানবিক ও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এমপিওর দাবিতে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। আন্দোলনরত শিক্ষকরা দাবি করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিওর নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে। নীতিমালার শর্ত পূরণে যোগ্য একশ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সারাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির আবেদন করার যোগ্যতাই নেই সিংহভাগ শিক্ষকের। এই নীতিমালা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান অনুমতি ও স্বীকৃতির সময় আরোপিত শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে নীতিমালার আলোকে শিগগিরই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এমপিওভুক্তি ছাড়া অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বাড়ি না ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এমপিওভুক্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্তি পেতে প্রথমে নতুন করে আবেদন করতে হবে। শর্তপূরণ না হলে আবেদন করতে পারবে না কোনো প্রতিষ্ঠান। এরপর জমাকৃত আবেদনের তথ্য যাচাই-বাছাই করে এমপিও দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। এক্ষেত্রে আবেদনের শর্ত হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সময়, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থী সংখ্যা ও পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে। নীতিমালায় একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিও পেতে প্রধান চারটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ১০০ নম্বর। এতে একাডেমিক স্বীকৃতির তারিখের জন্য রাখা হয়েছে ২৫ নম্বর। প্রতি দুই বছরের জন্য ৫ নম্বর এবং ১০ বা এর চেয়ে বেশি বছর হলে পাবে ২৫ নম্বর। শিক্ষার্থী সংখ্যার জন্য ২৫ নম্বর। আর শিক্ষার্থীর কাম্য সংখ্যা থাকলে ওই প্রতিষ্ঠান পাবে ১৫ নম্বর এবং এর পরবর্তী ১০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য পাবে ৫ নম্বর। পরীক্ষার্থী এবং উত্তীর্ণের সংখ্যায়ও শিক্ষার্থী সংখ্যার মতোই একইভাবে নম্বর বণ্টন করা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি পেতে কাম্য শর্তাদি অবশ্যই পূরণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এমপিও নীতিমালায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিতে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ও অবসরের বয়স নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মেধাক্রম/মনোনয়ন/নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইনডেক্স নম্বর বা নিবন্ধন সনদ ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেয়া যাবে না। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা জীবনে শুধু একটি তৃতীয় বিভাগ/সমমান গ্রহণযোগ্য হবে। কাম্য যোগ্যতা পূরণ করতে নীতিমালা অনুযায়ী, সহশিক্ষা ও বালক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নি¤œ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। মাধ্যমিকে শহরে ৩০০ ও মফস্বলে ২০০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। স্কুল অ্যান্ড কলেজে শহরে ৪৫০ ও মফস্বলে ৩২০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। স্নাতক পাস কলেজে শহরে ২৫০ ও মফস্বলে ২০০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। আর প্রতিটি শ্রেণির পরীক্ষায় শহরে ৬০ ও মফস্বলে ৪০ জন শিক্ষার্থীর অংশ নিতে হবে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ হতে হবে। আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষক জানান, সারাদেশে ১৫ থেকে ২০ বছর যাবত পাঁচ হাজারের বেশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। অত্যন্ত কষ্টকর ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অনেকের চাকরির মেয়াদ আছে আর ৫-১০ বছর। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির দাবি যৌক্তিক। এই দাবি পূরণে সরকার, মন্ত্রী ও সচিব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন টালবাহানা চলছে। তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতির জন্য একমাত্র শর্ত হচ্ছে স্বীকৃতি। আর স্বীকৃতির জন্য নূন্যতম ১৩টি শর্ত পূর্ণ করতে হয়। এসব শর্ত পূরণ করে ২০ বছর, ১৮ বছর, ১৫ বছর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পেয়েছিল। এখন আবার নতুন করে শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নতুন শর্ত আরোপ করা অমানবিক ও অযৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজের সঙ্গে সরকারের ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিমাতাসুলভ আচরণ মোটেই কাম্য নয়। এসব প্রতিষ্ঠান অনেক আগেই এমপিও পাওয়ার কথা ছিল। নতুন নীতিমালা কার্যকর করা কোনোভাবেই উচিত হবে না। এমপিওর আবেদন প্রক্রিয়া: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য একটি বাছাই কমিটি এবং অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য আরেকটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ৯ সদস্যের ‘প্রতিষ্ঠান বাছাই কমিটি’। এই কমিটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী নতুন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। প্রতিষ্ঠানের আবেদনের তথ্যে কোনো অনিয়ম বা অসামঞ্জস্য থাকলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়েও এই কমিটি সুপারিশ করবে। অন্যদিকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের জন্য (ব্যানবেইস) মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ৮ সদস্যের কারিগরি কমিটি। এই কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম এনালিস্ট, প্রোগ্রামারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এই কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী শর্ত পূরণ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে। আবেদনগুলোর ডেটা প্রসেসিং কার্যক্রমও তদারক করবে এই কমিটি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রস্তুত করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরে গ্রেডেশন তালিকা ‘প্রতিষ্ঠান বাছাই কমিটির’ কাছে উপস্থাপন করবে এই কমিটি। বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার এমপিওভুক্তি (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) আট বছর বন্ধ রয়েছে। এমপিরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার তাগিদ দিচ্ছেন। এ নিয়ে কয়েক দফা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় সংসদে এমপিদের তোপের মুখেও পড়েছেন। এমপিরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার তালিকা দেয়ার পরও তা না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সারাদেশে এমপিদের চাপ এবং আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা হবে এমনটি ভাবা হচ্ছিল। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ২০১০ সালে সর্বশেষ ১ হাজার ৬২৪টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। ২০১১ সালে ১০০০ স্কুল-মাদরাসা এমপিওভুক্তি করার ঘোষণা দেয়া হলেও তা করা হয়নি। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে ২০১১ সাল থেকে। এতে নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ভীষণ কষ্টে দিন কাটছে। এমপিওভুক্তির দাবিতে অন্তত ২৫ বার আন্দোলন হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্বাসও মিলেছে। কিন্তু এমপিওভুক্ত করা হয়নি। বছরজুড়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি নিয়ে রাজপথে ছিলেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া বেতনের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ সত্বেও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে খাত উল্লেখ না করলেও নন-এমপিও ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র উঠে এসেছে। শিক্ষার্থী না পাওয়াসহ নানা অভিযোগে সারাদেশে ২০২টি মাদরাসা বন্ধ করে দেয় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। এর মধ্যে মাগুরার রিজিয়া রুবিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার ২০ ছাত্রী দাখিল পরীক্ষা দিয়ে সবাই ফেল করায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে। এমপিওভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক ও তিন কর্মচারী রয়েছেন। তারপরও এমপিওভুক্ত হওয়ার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে প্রতি মাসে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত শাহপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জিয়াউর রহমান