শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দর্শনায় মোটরসাইকেল মিস্ত্রী জাকিরের কুড়ুলগাছিতে দাফন সম্পন্ন

  • আপলোড তারিখঃ ০৮-০৭-২০১৮ ইং
দর্শনায় মোটরসাইকেল মিস্ত্রী জাকিরের কুড়ুলগাছিতে দাফন সম্পন্ন
এলাকায় ধুম্রজাল : জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ২ দর্শনা অফিস: দর্শনায় গ্যারেজ মালিক মোটরসাইকেল মিস্ত্রী রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হওয়া জাকির হোসেনের দাফনকার্য সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছী পূর্বপাড়া কবরস্থানে তার নামাজের জানাজা শেষে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে, মৃত জাকির হোসেনের দাফন কাজ বেদনা বিধূর পরিবেশে সম্পন্ন হলেও তার মৃত্যুর আসল কারন এখনো জানা যায়নি। এ নিয়ে এলাকায় ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার সকালের দিকে দর্শনায় গ্যারেজ মালিক মোটরসাইকেল মিস্ত্রী জাকির হোসেনের মৃত্যু হয়। দর্শনা মোহাম্মদপুরের চাতালপাড়ার বাড়ির মালিক এ্যাড. মুছার হক লজ নামক ভাড়া বাড়িতে এ মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নিহতের স্ত্রী ঘটনার পর থেকে স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করলেও পরে হাসপাতালে মেলে গলাই দড়ির চিহ্ন। মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়। এ মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করছে এলাকাবাসী। আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে এমনই প্রশ্ন দেখা দেয় জনমনে। জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের কুড়ুলগাছি স্কুলপাড়ার লাল মোহাম্মদের ছেলে মোটরসাইকেল মিস্ত্রী জাকির হোসেন প্রায় ১৫ বছর আগে জীবননগর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের হাতেম আলীর মেয়ে ববিতা খাতুন বর্ষার সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে তাদের পরিবারের বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সমস্যা হয়ে আসছিলো। সে দীর্ঘদিন ধরে নিজ গ্রাম ছেড়ে দর্শনা মোহাম্মদপুরে একটি বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে স্ত্রীসহ জুই ও জুথি ২কন্যা সন্তানের সাথে বসবাস করছিলো। তিনি দর্শনা বাসস্ট্যান্ড মাইক্রোস্ট্যান্ড সংলগ্ন দেলোয়ার হোসেনের একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ করেন। গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তার লাশ দেখে স্ত্রী ববিতা খাতুন বর্ষা চিৎকার করলে মহল্লার লোকজন ছুটে এসে জাকিরকে ঘর থেকে উদ্ধার করে। এসময় জাকিরের স্ত্রী বর্ষ এলাকায় ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কাছে খবর দেয় তার স্বামী জাকির হোসেন স্ট্রোক করেছে। এরপর তাকে একটি মাইক্রোবাসযোগে দ্রুত নেওয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বলে তার অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের গলাই দাগ দেখে সন্দেহ হলে চিকিৎসক বলেন স্ট্রোকে নয় গলাইদড়িতে মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ সকালেই জাকিরের স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তবে জাকিরের মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক বলে ধারনা করছে এলাকাবাসিসহ মৃত জাকিরের পরিবার। এ বিষয়ে জাকিরের পিতা লাল মোহাম্মদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসারে বিভিন্ন সমস্যা থাকায় দর্শনায় গিয়ে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলো জাকির। বিভিন্ন সময় বর্ষার বাড়ির লোকজন এসে আমার ছেলের হুমকি ধামকি দেখিয়ে যাচ্ছিলো। তার মৃত্যু পরিকল্পিত একটি হত্যা বলে জানায় জাকিরের পিতা। এদিকে, এলাকাবাসী ও জাকিরের পরিবারের মনে প্রশ্ন স্ত্রী বর্ষা প্রথমে স্ট্রোক ও পরে গলাইদড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে প্রচার করে। এনিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তিনি কোন অপরাধ ঢাকতে এক মৃত্যুর ঘটনায় দুই রকম প্রচার কোন স্বার্থে। তবে পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে জাকিরের মৃত্যুর রহস্য। এ ব্যাপারে দামুড়হুদা থানা পুলিশ সকালেই জাকিরের স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারনা জাকিরকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শুকুমার বিশ্বাস জানান তাঁর স্ত্রীর কথায় সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে দামুড়হুদার কুড়–লগাছি গ্রামে নামাজের জানাযা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত শাহপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জিয়াউর রহমান