শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চাল নিয়ে চালবাজি

  • আপলোড তারিখঃ ১২-০৬-২০১৮ ইং
চাল নিয়ে চালবাজি
ডেস্ক রিপোর্ট: খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১০ লাখ টনের বেশি চাল মজুত রয়েছে। চলতি বছর বোরো ফসল থেকে ১ কোটি ৯২ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। আবার এবার বন্যা বা অতিবৃষ্টিতে ফসলহানিও হয়নি। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই চালের বাজার অস্থির। অথচ বাজারে এখন যে চাল আছে, সেটি আগেই আমদানি করা। চালে দাম বাড়ায় নি¤œ আয়ের মানুষদের মধ্যে ফের অসন্তুষ্টি বাড়ছে। কিন্তু কেন বাড়ছে চালের দাম এ প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলছে না। সবচেয়ে খারাপ খবর যেটি তা হলো মিলার এবং আড়তদাররা খুচরা বিক্রেতাদের বার্তা দিয়ে রেখেছেন ঈদের পর চালের দাম আরো বাড়বে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, চাল আমদানিতে শুল্ক আরোপের বিষয়টি। তবে সেই শুল্ক আরোপ বাজেটে প্রস্তাব এসেছে। বাজেট পাস হলে জুলাই মাস থেকে এটি কার্যকর হবে। আর তা হলেও আমদানি করা চাল বাজারে আসতে আরো অনেক সময় লাগবে। এরই মধ্যে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়ার পরই দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে চাল ব্যবসায়ীদের চালবাজি বলে মনে করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেটে চালের আমদানি শুল্ক পুনর্বহালের খবরেই বাজারে বেড়ে গেছে চালের দাম। বাজেট ঘোষণার পরই পাইকারি বাজারে আমদানি করা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা। তবে বোরো ধান পুরোপুরি উঠে যাওয়ার পর ধানের দাম বৃদ্ধির কারণ কী, সে প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি বিক্রেতাদের কাছে। জানা গেছে, বাজেটে চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ পুনর্বহাল করার দুই দিনের মাথায় বাজারে কারসাজি শুরু হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন। দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে যে চাল মজুত আছে, তার পুরোটাই শূন্য শুল্কের সুযোগ নিয়ে আমদানি করা। গত কয়েক দিনে দেশে নতুন করে চালও আমদানি হয়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, বাংলাদেশে চালের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ ভারতে চালের দাম প্রতিদিন কমছে। অন্যান্য দেশেও চালের দাম স্থির আছে। ফলে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে ব্যবসায়ীরা জানান। সূত্র জানায়, গত বছর বন্যায় ফসলহানির কারণে আমদানি উৎসাহিত করতে সরকার ২৮ থেকে দুই ধাপে শুল্ক কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে। এ সুযোগে বেসরকারি আমদানিকারকরা ব্যাপক চাল আমদানি করেন। এবার বোরো উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকরা যাতে ন্যায্য দাম পান, তার জন্য বাজেটে ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহালের প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকার এবার ধানের দাম নির্ধারণ করেছে কেজিপ্রতি ২৬ টাকা। কিন্তু বাজারে ধানের দাম ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকার মধ্যে। তবে ধানের দর নির্ধারিত দামের চেয়ে কম হলেও চালের দাম নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি। সরকার সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩৮ টাকা। অথচ রাজধানীর বাজারে সবচেয়ে কম দামের চালও ৪০ টাকার নিচে মিলছে কম। খাদ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) ১১ মাসে চাল আমদানি হয়েছে ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার টন। দেশের চালকল মালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম লায়েক আলী বলেন, শুল্ক বাড়ানোর ফলে ও গত কয়েক দিনে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ধানের আর্দ্রতা কমেছে। এতে শুকনা ধানের দাম প্রতি মণে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। তবে এখনো চালের দাম বাড়ার কথা না। সরকারের উচিত চালের বাজারে তদারকি বাড়ানো। এদিকে বাংলাদেশে চাল আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর কারণে ভারতে রপ্তানি করা চালের দাম কমেছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে চালের ঊর্ধ্বমুখী দরও স্থির হয়ে গেছে। কারণ বাংলাদেশ ছিল বড় আমদানিকারক। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বর্তমানে ভারতে প্রতি কেজি চালের আমদানি মূল্য ৩৫ টাকা, থাইল্যান্ডে ৪০ ও ভিয়েতনামে ৪১ টাকা। সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত ৩৮ লাখ টন চাল আমদানি করেছে। আরো ৪৫ লাখ টন চাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ টনের ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত শাহপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জিয়াউর রহমান