বৃহত্তর আন্দোলনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে বিএনপি
- আপলোড তারিখঃ
০২-০৬-২০১৮
ইং
সমীকরণ ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর আন্দোলনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে বিএনপি। কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সংলাপের দাবিতে কড়া কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামবে দলটি। নির্বাচন ইস্যুতে রাজনৈতিক সংলাপের দাবিতে যুক্তফ্রন্টসহ দুই জোটের বাইরে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দল একাত্মতা ঘোষণা করবে সে আন্দোলনে। পরিবর্তন আসবে দলটির বর্তমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ধরনে। জনমত, রাজপথ, কূটনীতিক- নানামুখী চাপ সৃষ্টি করা হবে সরকারের ওপর। সরকারের তরফে ইতিবাচক সাড়া না এলে নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকারই হবে সে আন্দোলনের চূড়ান্ত দাবি। কড়া ও কার্যকর কর্মসূচির সমন্বয়ে আন্দোলন হবে স্বল্প মেয়াদি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ধরনে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের দাবি আদায় সম্ভব নয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসা দলটির নেতারা সপ্তাহখানেক ধরে তাদের বক্তব্যে ‘কড়া’, ‘কঠোর’ ও ‘কার্যকর’ শব্দগুলো ব্যবহার করছেন। দলটির নীতি নির্ধারক ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সে ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আহ্বান জানাচ্ছেন। সে লক্ষ্যে সাংগঠনিক সফর, ত্বরিৎগতিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, কূটনীতিক লবিংসহ নানা তৎপরতা জোরদার করেছে বিএনপি। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর চলমান আন্দোলনকে নতুন গতি দেয়া হবে এবং চূড়ান্ত আন্দোলন হবে ঈদুল আজহার পর। সার্বিকভাবে সরকার পতনের ‘এক দফা’র লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি নেতারা। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি ও ২০ দল। দুই বড় জোটের বাইরে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দলও সে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সে সময় সাংবিধানিক বাধ্যবাদকতার দোহাই দিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপিসহ রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে সরকার। কিন্তু সে ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়। নির্বাচনের পর প্রথম দুই সপ্তাহ একধরনের এলোমেলো পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে শক্ত একটা অবস্থান তৈরি করে সরকার। সে নির্বাচনের এক বছরের মাথায় কড়া কর্মসূচির সমন্বয়ে লাগাতার আন্দোলন করেছে বিএনপি। তবে সরকারের কঠোর মনোভাবের কারণে একপর্যায়ে গন্তব্যহীনভাবেই স্তিমিত হয় বিএনপির সে আন্দোলন। উল্টো সে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বহু নেতা হতাহত হন। দলের শীর্ষ নেত্রী থেকে তৃণমূল পর্যন্ত লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হয় গ-া গ-া মামলা। অনেকের মামলার সেঞ্চুরি, ডবল সেঞ্চুরিও পার হয়ে যায়। একপর্যায়ে রাজপথে উত্তাপ সৃষ্টিকারী কর্মসূচিসহ আন্দোলন থেকে সরে আসে বিএনপি। তারপর তিন বছর রাজপথের আন্দোলন এড়িয়ে আসছে বিএনপি। এ সময় জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি, জনমত বৃদ্ধি, আন্দোলন ইস্যুতে হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার ও কূটনীতিক লবিংয়ে জোর দেয়। পাশাপাশি তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে এসে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ও বারবার সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু বিএনপির সে আহ্বানকে বারবার প্রত্যাখ্যান করছে সরকার। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত ও সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য করার কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না সরকার। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন বিএনপির নেতারা। সম্প্রতি দেশের রাজনীতিতে দৃশ্যমান হচ্ছে সে তৎপরতার একটি ইতিবাচক অগ্রগতির স্পষ্ট বার্তা।
কমেন্ট বক্স