শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোজার মাসে বেড়েছে ডায়রিয়া ও গ্যাস্টিকের রোগীর সংখ্যা

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৫-২০১৮ ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোজার মাসে বেড়েছে ডায়রিয়া ও গ্যাস্টিকের রোগীর সংখ্যা
চারদিনে শিশুসহ চিকিৎসা নিয়েছে ৮৮৫ রোগী : কলেরা স্যালাইন সংকট আফজালুল হক: তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গরম আবহাওয়া ও রোজার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে নানা বয়সী মানুষ। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রোগে। হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ভাইরাস জ্বর, অ্যাজমা, ব্রংকিউলাইটিসসহ বিভিন্ন রোগের রোগীর সংখ্যা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোজার মাসে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ও গ্যাস্টিক রোগীর সংখ্যা দিনেদিনে বেড়েই যাচ্ছে। গত চারদিনে শিশুসহ হাসপাতালের আউটডোরে ৮৮৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৪২৯ জন রোগী। নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৯০ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ও ১৭৫ জন গ্যাসের কারণে ভর্তি হয়েছে। তবে গ্যাস্টিকে আক্রান্ত শিশু বেশী ভর্তি হয়েছে। এদিকে, সদর হাসপাতালে খাবার স্যালাইনের সরবরাহ থাকলেও গত তিন মাস যাবত থেকে কলেরা স্যালাইন সংকট শুরু হয়েছে। নেই কলেরা স্যালাইনের সরবরাহ। তাই বাইরের ফার্মেসিগুলো থেকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে কলেরা স্যালাইন। এতে দরিদ্র রোগীর অভিভাবকদের আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ডায়রিয়া ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও কর্তব্যরত নার্সরা। এই গরমে হাসপাতালের ওয়ার্ডে বেড না পেয়ে মেঝেতে শিশুদেরকে নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। হাসপাতালে তিল পরিমাণও ঠাই নাই। ওয়ার্ডের বাইরে ভর্তি হওয়া এক শিশু রোগীর মা জানান, হাসপাতালে এসে বেড পায়নি। গরমে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে মেঝেতে শুয়ে আছি। বেশি ঠাসাঠাসিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তেমনই রোগীর চাপ ঠিক সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছে সেবিকারা। ডায়রিয়া ও গ্যাস্টিকের প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু হাসান মো. ওয়াহেদ রানা এ প্রতিবেদককে বলেন, ডায়রিয়ার আভাস পেলে প্রথমেই কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ঘনঘন খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে, যা শরীরের পানি শূন্যতার অভাব পূরণ করবে। বেশি বেশি করে তরল খাবার যেমন ভাতের মাড়, চিড়ার পানি ও ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। এছাড়া কলেরা স্যালাইন খাওয়ালে শরীরের লবণ ও পানির যে ঘাটতি তৈরি হয় সেটা কমে যাবে। আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ টিউবওয়েলের পানি খাওয়াতে হবে। টিউবওয়ালের পানি পাওয়া না গেলে পুকুর বা নদীর পানি চুলায় দিয়ে বুদবুদ ওঠা থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত ফুটিয়ে খাওয়াতে হবে। শিশু’র ক্ষেত্রে স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে। অল্প অল্প করে বার বার খাওয়াতে হবে। যে সব শিশু মায়ের বুকের দুধ খায়, তাদের ঘনঘন মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ মোতাবেক জিঙ্ক খাওয়াতে হবে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রতি বার পায়খানার পর ১০-২০ চা চামচ পরিমাণ স্যালাইন খাওয়াতে হবে ও ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ২০-৪০ চা চামচ পরিমান স্যালাইন খাওয়াতে হবে। ৬ মাসের কম বয়সী শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ ও স্যালাইন খাওয়াতে হবে। খাবার তৈরীর আগে রোগীকে খাওয়াবার পূর্বে ও পায়খানার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। এছাড়া সব সময় সিদ্ধ ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে বোতলের দুধ খাওয়ানোর থেকে বিরত থাকতে হবে। জলাবদ্ধ পায়খানা ব্যবহার করতে হবে। শিশুকে অবশ্যই হামের টিকা দিতে হবে। এছাড়া রোগীর অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে পরামর্শ দেন ডা. আবু হাসান মো. ওয়াহেদ রানা।


কমেন্ট বক্স
notebook

অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত শাহপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ জিয়াউর রহমান