পরিকল্পিত হত্যা শেষে লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা : রহস্য
- আপলোড তারিখঃ
২৪-০৫-২০১৮
ইং
আলমডাঙ্গার তিয়রবিলা মাঠ থেকে শীর্ষসন্ত্রাসী আব্দুল কাদেরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার
আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গার তিয়রবিলার বয়ারগাড়ি মাঠের পাটক্ষেত থেকে হরিনাকুন্ডু তাহেরহুদা গ্রামের আব্দুল কাদেরের (৫০) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আ.কাদের তাহেরহুদার মহি উদ্দীন জোয়ার্দ্দারের ছেলে এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। গতকাল বুধবার দুপুরে তার ক্ষত বিক্ষত গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নামে হারনাকুন্ডু থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
জানা যায়, বুধবার সকালে তিয়রবিলার বয়ারগাড়ি মাঠের একটি পাটক্ষেতে অর্ধ গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। তারা বিষয়টি জানালে দুপুর নাগাদ লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের নিকট থেকে পুলিশ একটি কালো কাপড়ের ব্যাগ উদ্ধার করেছে। ব্যাগে শার্ট, পাঞ্জাবি, মোবাইলফোনের চার্জার ছিল। এছাড়াও কিছু দূরের ঝোপের ভেতর থেকে একটা টর্চ লাইট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংবাদ আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ লাশটি দেখতে ছুটে আসে। তাদের অনেকেই লাশটির পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, লাশটি পার্শ্ববর্তি হরিণাকুন্ডু উপজেলার তাহেরহুদা গ্রামের মহি উদ্দীন জোয়ার্দ্দারের ছেলে আব্দুল কাদের জোয়ার্দ্দারের। তার স্ত্রী লাশ দেখে পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে বলে তিওরবিলা ফাঁড়ি পুলিশ জানায়।
গ্রামবাসী জানায়, আব্দুল কাদের জোয়ার্দ্দার বেশ কয়েক বছর ধরে গ্রামছাড়া। গ্রামের মানুষ শুনেছে যে সে চরমপন্থী দলের নেতা। দীর্ঘদিন পর পর গোপনে আকস্মিক কয়েক মুহুর্তের জন্য বাড়িতে যাওয়া আসা করতে দেখা যায় তাকে। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর তিনি বাড়ি ছেড়েছে বলে জানেন গ্রামবাসী। বেশ কয়েক বছর সে ঢাকার রামপুরা এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছিল বলে গ্রামের অনেকে শুনেছে। গত প্রায় ৩ বছর আগে আবার এলাকায় ফেরে সে। তবে সে গ্রামে বসবাস করত না। গ্রামের বিএনপি নেতা গোলজার মন্ডল, আওয়ামী লীগ নেতা সানোয়ার হোসেন এবং আফজালকে নির্মমভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই সকল খুন আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে করা হয় বলে অভিযোগ উঠার পর থেকে এলাকা ছাড়া হয় সে। এক সময় সে চরমপন্থী গ্রুপের শীর্ষ নেতা হরিণাকুন্ডুর টাকপাড়ার হানেফের বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত ছিল।
এদিকে, তিওরবিলা গ্রামের বয়ারগাড়ি মাঠে লাশ পড়ে থাকার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান আলমডাঙ্গা থানার এসআই গোকুল কুমার চন্দ্র। তিনি জানান, লাশটি যে স্থানে পড়ে ছিল; সেখানে খুনের কোন চিহ্ন নেই। এমনকি রক্তও নেই। বেশ কিছুটা দূরের ঝোপের নিকট থেকে মাঠে দিকে মাটিতে ফোটা ফোটা রক্ত পড়ে আছে। নিকটবর্তী খালপাড়ের পর থেকে এ রক্তের ফোটার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তার ধারণা- আব্দুল কাদেরকে খালের অন্যপাড় অর্থাৎ হরিণাকুন্ডু অংশে হত্যা করে লাশ বয়ারগাড়ি মাঠের পাটক্ষেতে ফেলে রেখে যায় দুর্বত্তরা। তাকে হরিণাকুন্ডু উপজেলার সীমানায় হত্যা করে ঝামেলা এড়াতে লাশ পরিকল্পিতভাবে আলমডাঙ্গা এলাকায় ফেলে গেছে বলে গ্রামবাসীদের অনেককে এমন মন্তব্য করতে শোনা গেছে। তাদের দাবি আলমডাঙ্গা ও হরিণাকুন্ডু উপজেলার মাঝামাঝি স্থানে এই খাল। অর্থাৎ খালের একদিকে হরিণাকুন্ডু উপজেলা আর অন্যপাড়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার অবস্থান। খালের এপাড়ের শুরু থেকে অর্থাৎ আলমডাঙ্গা অংশে রক্তের ফোটা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ থেকে বোঝা যায় যে, খালের ওপারের কয়েক মিটার দূরে হরিণাকুন্ডু অংশে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়ে লাশ এ পাড়ে ফেলে রাখা হয়েছে।
হরিণাকুন্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আয়ূবুর রহমান বলেন, হরিণাকুন্ডু উপজেলার তাহেরহুদা গ্রামের আব্দুল কাদের হরিণাকুন্ডু থানা পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার নামে হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারের চেষ্টা করে আসছিল।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) লুৎফুল কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আব্দুল কাদেরকে অন্যত্র হত্যা করে হরিণাকুন্ডু উপজেলার সীমান্তবর্তী আলমডাঙ্গা উপজেলা অংশের তিওরবিলা গ্রামের মাঠে ফেলে রেখে গেছে। তবে প্রতিপক্ষ অথবা অন্য কেউ খুন করেছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না। গতকালই ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তাহেরহুদার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাদ এশা গ্রামের গোরস্থানে জানাযা শেষে দাফন করা হয়।
কমেন্ট বক্স