সারাদেশে প্রাথমিক স্কুলে ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে
- আপলোড তারিখঃ
২৩-০৫-২০১৮
ইং
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৩৮ হাজার কোটি টাকা : একনেকে অনুমোদন
সমীকরণ ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার বিশাল কর্মসূচী হাতে নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেয়া পাঁচ বছর মেয়াদী এ কর্মসূচীর কার্যক্রম শুরু হবে আগামী জুলাই মাস থেকে। চলবে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এ কর্মসূচী সহায়ক হবে। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচী (পিইডিপি-৪) শীর্ষক প্রকল্পটি গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনুমোদিত প্রকল্প বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। মন্ত্রী জানান, মূলত পিইডিপি-৩ কর্মসূচীর ধারাবাহিকতায় পিইডিপি-৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। কর্মসূচীতে সরকারের নিজস্ব তহবিল হতে ব্যয় হবে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ১২ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর ঋণ ও অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, ডিএফআইডি, ডিফাট (অস্ট্রেলিয়া), গাক (কানাডা) ও ইউনিসেফ। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের স্বপ্নের কর্মসূচী। প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অবকাঠামোসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের উন্নয়নে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এবারের কর্মসূচীর বেশির ভাগ অর্থ ব্যয় হবে গুণগত মান তথা উৎকর্ষ সাধনে। এজন্য প্রি-প্রাইমারী এবং প্রথম হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বর্তমান পাঠ্যসূচীর সংশোধন এবং সব স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা হবে। সারাদেশে প্রাথমিক স্কুলে ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৪ শিক্ষকের ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রতি শিক্ষককে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান, শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিদেশে মাস্টার্স ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, আইসিটি ট্রেনিং, লিডারশিপ ট্রেনিংসহ মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রয়োজনে তৃতীয় আরও একটি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেক সভায় এটিসহ মোট ১৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ১২টি প্রকল্প নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫২ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য ৪৩ হাজার ২২১ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ৩২৮ কোটি টাকা। অনুমোদিত অন্য প্রকল্প: অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ৮ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ের রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত কেন্দ্র প্রকল্প, ২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ের কন্সট্রাকশন অব নিউ ১৩২/৩৩ কেভি এন্ড ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন আন্ডার ডিপিডিসি প্রকল্প (১ম সংশোধিত), যশোর, কক্সবাজার, পাবনা ও নোয়াখালীর চারটি মেডিক্যাল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। এছাড়া ৮০৬ কোটি ব্যয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন (১ম পর্যায়) প্রকল্প, ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তথ্য কমিশন ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং ৫৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় বাংলাদেশ বেতারের সিলেট কেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর বাইরে ৩৯৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও সিটি বাইপাস সড়ককে সংযুক্ত করে সংযোগ সড়কসহ তিনটি লিংক রোড নির্মাণ প্রকল্প, ১৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকার তেজগাঁওয়ে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্লাট নির্মাণ প্রকল্প, ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেনার নদী বন্দর স্থাপন প্রকল্প, ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীর ভূমিতে, পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, ৬১২ কোটি টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধিত), ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং খাল উন্নয়ন, ৭১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি র্যাব ফোর্সেস ট্রেনিং স্কুল কমপ্লেক্স নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
কমেন্ট বক্স