জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসহ ম্যুরাল
- আপলোড তারিখঃ
২১-০৫-২০১৮
ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেছেন ‘সব জেলায় নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে প্রতিকৃতি, ম্যুরাল ও স্থাপনা আছে; যা চুয়াডাঙ্গা জেলায় নেই। এতে করে জেলায় প্রবেশ ও বাহিরের সময় বোঝার উপায় থাকে না এটা আমাদের জেলা। তাই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসহ ম্যুরাল, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত স্থাপনা ও জেলা ব্রান্ডিং পণ্যের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি সম্বলিত স্থাপত্য নির্মাণ করা হবে। এ কাজ সফল করতে সকলের সহযোগিতা চাই।’ গতকাল রোববার সকাল ১০টায় নিজ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘ম্যুরাল সম্বলিত স্মৃতি স্তম্ভ করতে মোটামুটি ১০-১৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে। যা জেলা প্রশাসনের পক্ষে ব্যয় করা অনেকটা কঠিন। তাই সমাজের সকল বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’ সীমান্ত সতর্কতা জরুরী দাবি করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বাংলাদেশের তুলনায় বর্তমানে প্রতিবেশি দেশ ভারতে জ্বালানী তেলের মূল্য বেশি। লিটার প্রতি ডিজেল, প্রেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিন গড়ে ২০-২৫ টাকা বেশি। ফলে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পথে জ্বালানী তেল পাচার করা হতে পারে। তাই এখনি সীমান্ত সতর্কতা জোরদার করতে হবে।’ শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে করণীয় নিয়ে জেলা প্রশাসক আলোচনা করেন, ‘শহর জুড়ে অপরিকল্পিত ভাবে দেয়াল লিখন, যত্রতত্র পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো বেআইনি। সরকারি দপ্তরের ব্যানার বিলবোর্ডের জন্য পৌরসভাকে ট্যাক্স দিতে হবে। শিঘ্রই পৌর সভার সহযোগিতায় শহরের সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তুলতে এ সকল পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড উচ্ছ্বেদ করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অবস্থান আশঙ্কা জনক হারে বাড়ছে। এই রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। রমজান মাসজুড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও ভোক্তা হয়রাণির তদারকি করা হচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।’ সমন্বয় সভার পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর সমূহে প্রায় কোটি টাকার পৌর ট্যাক্স বাকেয়া রয়েছে। যা আদায়ে বার বার তাগিদ দেয়ার পরেও পরিশোধ করছেন না। সরকারি অফিস সমূহের এই বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধ না করলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই আগামী জুন মাসের মধ্যে ট্যাক্স পরিশোধের জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সচিব নুরজাহান খানম জানান, জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক সকল কর্মকান্ড স্বাভাবিক ভাবেই চলছে। জেলা জুড়ে বিভিন্ন সড়কের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হায়দার। তিনি বলেন, ‘জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ঈদের আগে সব কাজ শেষ হবে।’ এ ছাড়াও ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর মহাসড়কের কাজ ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। জেলা শিক্ষা অফিসার নিখীল রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘খুব শিঘ্রই জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করা হবে। প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে; তাও শেষের দিকে।’ চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে কাঙ্খিত পাসপোর্ট পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। এ সমস্যা নিয়ে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. রুবাইয়াত ফেরদৌস জানান, ‘পাসপোর্ট ছাপা খানায় যান্ত্রিক জটিলতায় পাসপোর্ট প্রত্যাশীদেরকে কিছুটা সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। তবে এই রমজান মাসের মধ্যে সে সমস্যা সমাধান হবে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ.বি.এম রবিউল ইসলাম তার বক্তব্যে রমজান মাসজুড়ে ব্যবসায়ীদের হালাল উপায়ে ব্যবসা করার আহ্বান জানান। সেই সাথে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে সকলকে সতর্ক হওয়ার তাগিদ দেন। সভায় জেলার সকল সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত থেকে দাপ্তরিক ও সমন্বিত কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করেন। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ব্রান্ডিং কমিটি, জেলা কর্ণধর কমিটি ও মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কমেন্ট বক্স