খুলনা সিটি নির্বাচন : মাঠে সরব আওয়ামী লীগ চাপে রয়েছে বিএনপি
- আপলোড তারিখঃ
১১-০৫-২০১৮
ইং
সমীকরণ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার, দুপুরবেলা। খুলনা সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলীর কক্ষে এলেন আসাদুজ্জামান আসাদ। সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সামসুন নাহার লিপির স্বজন তিনি। রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আসাদ জানালেন, প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তার স্বামী মাহাবুব হাসানকে গত ২ মে রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে তার ভাইকে প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট করা হয়। বুধবার রাতে তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তিনি এসেছেন তৃতীয়বারের মতো প্রধান এজেন্টের নাম পরিবর্তন করতে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী তাকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়ে আবেদনের পরামর্শ দেন। কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় আসাদুজ্জামান বলেন, এভাবে গ্রেফতার চললে কীভাবে নির্বাচন করব? আপনারা (সাংবাদিক) এ নিয়ে লেখেন না কেন? আসাদুজ্জামানের বক্তব্যেই বোঝা যায়, খুলনা সিটি নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপি কেমন চাপের মধ্যে আছে।
বিপরীতে নির্বাচনের মাঠে মেয়র-কাউন্সিলরদের পক্ষে প্রচারণার ক্ষেত্রে ব্যাপক সরব রয়েছে আওয়ামী লীগ। ফজরের নামাজের পর থেকেই প্রতিদিন ওয়ার্ড পর্যায়ে খ- খ- দলে বিভক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা শুরু করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টা থেকে শুরু হয় মাইকিং। পুরো নগরী ছেয়ে আছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের পোস্টারে। তুলনায় বিএনপির প্রচারণা অনেকটাই নিষ্প্রভ। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, পুলিশের ভয়ে বাড়িতেও থাকছেন না তারা। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের এসব বক্তব্য 'স্ট্যান্ডবাজি'। নিজেদের প্রার্থীর ভরাডুবি টের পেয়ে তারা নানা অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছেন। এখন পর্যন্ত কোথাও বিএনপির মেয়র বা কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণায় কোনও রকম বাধা দেওয়া হয়নি। সরেজমিন খুলনা নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থী দিনভর প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষও এই সুযোগে নানা সমস্যা-সংকটের কথা তাদের কাছে তুলে ধরছেন। এমন পরিস্থিতিতে কেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে? জানতে চাইলে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পল্গাটিনাম দুই নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা পাটকল শ্রমিক মফিজুল ইসলামের বক্তব্য, নৌকা-ধানের শীষ কেউই কাউকে ছাড় দেবে না। ব্যাপক ফাইট হবে। খানজাহান আলী রোডের কলেজিয়েট স্কুলের মোড়ে দাঁড়িয়ে স্কুলশিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বললেন, খুলনার মানুষ বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ও সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের মেয়াদকালের তুলনা করছেন। দেখা যাচ্ছে, উন্নয়ন কার্যক্রমে আবদুল খালেক অনেক এগিয়ে আছেন মনির চেয়ে। তবে মনিও নাকি ৯টি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন, যার একটিরও অনুমোদন হয়নি। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে দারোগাপাড়া এলাকার আবদুল হামিদ বললেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অনেক গণসম্পৃক্ত মানুষ। সাধারণ মানুষের মধ্যে তার পজিটিভ ইমেজ রয়েছে। আবদুল খালেকেরও তাই। দু’জনের প্রতিদ্বন্দ্বীতা তাই জমজমাটই হবে। প্রচারে এগিয়ে আওয়ামী লীগ: সরেজমিনে নগরীর রয়্যাল মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, তালতলা রোডে ঢোকার মুখে শোভা পাচ্ছে একটি নৌকা প্রতীক। মুজগুন্নি মহাসড়কের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা এবং রায়েরমহল সড়কসহ নগরীর আরও অনেক স্থানেই রয়েছে এ রকম এক বা একাধিক নৌকা প্রতীক- যেগুলো আবার আবদুল খালেকের পোস্টার দিয়ে মোড়ানো। তবে নগরীর কোথাও এখনও ধানের শীষের কোনো প্রতীক দেখা যায়নি। শুধু বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ব্যক্তিগত গাড়ির সামনের দ-ে ধানের শীষ ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতার আতঙ্কে তাদের কর্মীরা ঠিকমতো প্রচারণা চালাতে পারছেন না। প্রশাসনকে সতর্ক করল ইসি: সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে খুলনার প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত বুধবার সন্ধ্যায় খুলনা সার্কিট হাউসে বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় সভায় এ সতর্কবার্তা দেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। কবিতা খানম বলেন, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি মিলিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য দায়িত্ব পালনের পরও যদি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে কেউই জবাবদিহির বাইরে থাকবেন না। তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। এ সম্পর্কে ইসির বক্তব্য পরিস্কার। যারা ফৌজদারি মামলার আসামি, দাগী অপরাধী, যাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে, তাদের গ্রেফতার করা যেতেই পারে। তবে নিরপরাধ কাউকে আটক করা চলবে না। নির্বাচনী প্রচারের সময় কাউকে ধরে নিয়ে কোনো মামলা যেন না দেওয়া হয়।
কমেন্ট বক্স