মেহেরপুরে আবারো কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণ
- আপলোড তারিখঃ
১১-০৫-২০১৮
ইং
দেয়াল চাপায় বৃদ্ধা নিহত : ব্যাপক ক্ষতি
মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরে কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারো কালবৈশাখী ঝড় হানা দিয়েছে। এতে ১ বৃদ্ধার মৃত্যু, প্রচুর গাছপালা ভেঙে যান চলাচল বন্ধ, বাড়ি ঘর ভাংচুর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এ কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। সকাল ৮টার দিক থেকে মেহেরপুরের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। ৯টার দিকে ঝড় আঘাত হানেতে শুরু করে। সেইসাথে ভারি বর্ষন শুরু হয়। ঝড়ের তান্ডবে সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামে দেওয়াল চাপা পড়ে ফকিরের স্ত্রী পচাতন নেছা (৭০) মৃত্যু হয়। এদিকে প্রচন্ড বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের বারাদী বাজারের এলাকায় বিশাল মেহগনী গাছ ভেঙে পড়ে। এসময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগীতায় প্রায় একঘন্টা পর রাস্তার গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়াও ঝড়ে সদর উপজেলার শোলমারী, আশরাফপুর, গাংনী উপজেলার বামুন্দী সড়কে বিপুল পরিমান গাছ ভেঙে পড়ে। জেলার বিভিন্ন গ্রামে ভারী বর্ষনের ফলে পাকা ধান মাটিতে লুটে পড়ে। এদিকে, ভারী বর্ষনের ফলে শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর, জেলা মিল্পকলা একাডেমী মোড়, মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এন্ড বিএম কলেজ, টিএনটি রোড, সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। পরে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের তেরঘরিয়া, শোলমারী, উজলপুর গ্রাম পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি ঝড়ে দেয়াল চাপায় নিহত পচাতন নেছার পরিবারকে ২০ হাজার টাকা অনুদান ও ২ বান্ডিল টিন দেয়ার ঘোষনা দেন। জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা ওয়ালি উদ্দিন জেলা প্রশাসকের সাথে ছিলেন। এদিকে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অপরদিকে, মেহেরপুর সদর উপজেলার কলাইডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কালবৈশাখীর ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনের চাল উড়ে গেছে ও বিদ্যালয় অবকাঠামো ভেঙ্গে গেছে। ২০০০ সালে স্থাপিত চাটাই ও টিনের চাল দেয়া বিদ্যালয়টি গত ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সরকারীভাবে কোন পাকা বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়নি। গতকালের কয়েক মিনিটের ঘুর্নিঝড়েই বিদ্যালয়ের টিন উড়ে যায়।
কমেন্ট বক্স