চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও জীবননগরে পুলিশের সফল মাদকবিরোধী অভিযান
ডেস্ক রিপোর্ট: চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবাসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ এসকল মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আটক করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, জেলা গোয়েন্দ পুলিশ (ডিবি) মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বোয়ালমারী গ্রাম থেকে কুরবান আলীকে (৪২) গাঁজাসহ আটক করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে আটক করা হয়। এসময় আটককৃত আসামীর কাছ থেকে ৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলাসহ চুয়াডাঙ্গা সদর থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মুহিতুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বোয়ালমারী স্কুল পড়াই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে এইক এলাকার মৃত উম্বাত আলীর ছেলে কুরবানকে তার বসত বাড়ী থেকে আটক করেন। এসময় তার কাছ থেকে ৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে আটককৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলাসহ চুয়াডাঙ্গ সদর থান হেফাজতে সোপর্দ করা হয়।
অপরদিকে, মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে শিমুল আলী (২৭) নামের এক যুবককে গাঁজাসহ আটক করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার দেহ তল্লশি করে ১’শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। আটককৃত শিমুল দামড়হুদা উপজেলার বড়শলুয়া গ্রামের শহিদুল আলীর ছেলে। থানা সুত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ ওহিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টডিয়াম এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিমুলকে আটক করেন। এসময় তার কাছ থেকে ১’শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গতকাল রাতেই সদর থানায় তাকে সোপর্দ করা হয়।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে মান্নান নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় আরো দু’মাদক সেবীকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মান্নানকে আটক করে পুলিশ। মান্নান এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। একই সময় পুলিশ কিয়াম উদ্দিনের ছেলে মজিদ, ও মৃত আবু তাহেরের ছেলে আওলাদকে আটক করে। আটক দু’জন মাদকসেবী বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।

জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীসহ ৩ জন আটক হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে জীবননগর থানার এসআই সাইফুল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এসময় জীবননগর পৌরসভার ৮নং ওর্য়াডের আশতলাপাড়ার মুন্নাফ দর্জির ছেলে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শাহিনকে (২৭) ১০ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে। একইদিনে উপজেলার হাসাদহে অভিযান চালিয়ে মহেশপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে মাদক সেবনকারী আনিসুল হককে (২৫) ২ পিচ ইয়াবা ও উথলী মোড়পাড়ার তাইজুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে (৪০) আটক করে।
আন্দুলবাড়িয়া প্রতিনিধি জানিয়েছে, জীবননগর থানা পুলিশ ও শাহাপুর ক্যাম্প পুলিশ পৃথক পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে ৭২ বোতল ফেনিসিডিল ও ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ একজনকে আটক করেছে। গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ম-লপাড়ায় ভুট্টাখড়ি গাদা থেকে ৭২ বোতল ফেনসিডিল ও কেডিকে ইউনিয়নর দেহাটি তেল পাম্পের নিকট থেকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ একজনকে আটক করেছে। মাদক উদ্ধার ও জড়িদদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে জীবননগর থানায় পৃথক পৃথক মামলা রুজু করেছে। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যদাতার তথ্য পেয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই সিরাজ সঙ্গীয় ফোর্সসহ আন্দুলবাড়িয়া ম-লপাড়ার জামে মসজিদের নিকট ভুট্টা খড়ির গাদায় তল্লাসী চালায়। তল্লাশীকালে পুলিশ ৭২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে উপস্থিত জনতার সামনে জব্দ করেন।
অপরদিকে, শাহাপুর ক্যাম্প ইনর্চাজ এসআই বাবুল আক্তার ভোর পৌনে ৪ টার দিকে গোপন তথ্য পেয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনর্চাজের নির্দেশে দেহাটি তেল পাম্প থেকে উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের দেহাটি গ্রামের রশিকুুল ইসলামের ছেলে সজীব (২৮) কে আটক করেন। উপস্থিত জনতার সামনে তার দেহ তল্লাসী করে ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে জীবননগর থানায় পৃথক পৃথকভাবে মাদক আইনে মামলা হয়েছে।