দর্শনা নাস্তিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে আটক ৩৭ কেজি স্বর্ণের চালান কার?
- আপলোড তারিখঃ
২৬-০৪-২০১৮
ইং
চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি’র স্মরণকালের সেরা চোরাচালান বিরোধী অভিযান : ১৬ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ উদ্ধার
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এমএ মামুন/ওয়াসিম রয়েল: চুয়াডাঙ্গার দর্শনার নাস্তিপুর সীমান্ত থেকে ৩৭ কেজি ওজনের ৩২০টি স্বর্ণেরবার উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি। গতকাল বুধবার দুপুরে নাস্তিপুর সীমান্তের ৮০নং মেইন পিলারের পাশের মাথাভাঙ্গা নদীর সুলদারের ঘাট থেকে এ স্বর্ণেরবার উদ্ধার কর হয়। আটককৃত স্বর্ণের মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। স্মরণকালের সেরা এই চোরাচালান বিরোধী অভিযানের জন্য ৬ বিজিবি’র পরিচালক লে.কর্ণেল ইমাম হাসানসহ বিজিবি জোয়ানদের অভিনন্দিত করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসী।
এদিকে, দর্শনার নাস্তিপুরে ৬ বিজিবি’র হাতে আটক ৩৭ কেজি সোনা আটকের পর এলাকায় এখন একটায় গুঞ্জন ৩৭ কেজি স্বর্ণের চালান কার? এর আগে এতো সোনা এক সাথে আটক হতে দেখেনি এলাকাবাসী। তাই স্বভাবতই অনেকের মনে এমন স্বগত প্রকাশ বা নিজের কাছে প্রশ্ন করা স্বাভাবিক! যে এর সাথে জড়িত কারা? যারা সোনাপাচার করছে তারা দেশের শত্রু। এছাড়া অনেকেই ৬ বিজিবি’র জোয়ানদেরকে অভিনন্দন জানাতেও কার্পণ্য করেননি। সেই সাথে প্রকৃত অপরাধীদের আটক ও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করারও দাবী করেছে অনেকে। গতকাল দর্শনার নাস্তিপুর সীমান্তে ৬ বিজিবি’র জোয়ানদের হাতে দেশের সর্ববৃহৎ স্বর্ণের চালান ৩২০ পিস স্বর্ণের বিস্কুট উদ্ধার হয়। যার ঔজন ৩৬ কেজি ৯২৮ গ্রাম। এবং এর বর্তমান বাজার দর প্রায় ১৬ কোটি টাকা। তবে ৬ বিজিবি’র জোয়ানরা কোন পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি।
যেভাবে আটক হয় সোনা: পূর্ব থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি সুলতানপুর নাস্তিপুর সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণের একটি বড় চালান পাচার হবে। এরপর থেকে দর্শনা সুলতানপুরসহ দামুড়হুদা উপজেলার সকল সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদার করা হয় এরই প্রেক্ষিতে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সুলতানপুর বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার বীরেন্দ্রনাথ দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিজিবি দল নাস্তিপুর ৮০/১১ নং টি পিলার বরাবর অবস্থান নেয়। এরপর বেলা ১ টা ৪০ মিনিটের দিকে ৩ জন চোরাকারবারী নাস্তিপুর সিমান্তের মাথাভাঙ্গা নদী সাতরে ভারতে প্রবেসের চেষ্টাকালে বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় চোরাকারবারিরা পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। তারা বিজিবির দাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাপ দেয় এবং তাদের কাছে থাকা স্বর্ণের ব্যাগ ৩টি নদীর কিনারে ১টি এবং ২টি নদীর পানির ভিতরে ফেলে পালিয়ে যায়। এসময় অনেক চেষ্টার পর নদী থেকে অপর দুইটি স্বর্ণের ব্যাগও উদ্ধার করা হয়। ব্যাগ ৩টিতে ছিল ৩২০ পিচ স্বর্ণের বার যার ওজন ৩৬ কেজী ৯শ’২৮ গ্রাম, আনুমানিক মুল্য ১৬ কোটি টাকা। বিজিবির অভিযান চলাকালে সুলতানপুর,নাস্তিপুরসহ অত্রালাকার সহ¯্রাধিক নারী পুরুষ মানুষ নদী তীরে ভিড় জমায়।
এদিকে অভিযান চলাকালে বিজিবি সদস্য রিপন নামে একজন আহতও হয়। বিজিবি-৬ ব্যাটেলিয়ানের দর্শনা সুলতানপুর ক্যাম্পের হাবিলদার বীরেন্দ্রনাথ দত্ত বলেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনেক দিন থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছি সোনাপাচারকারীসহ সোনা উদ্ধার করবো। কিন্তু সীমান্তের মানুষের কোন সহযোগীতা পাওয়া কঠিন। কারণ এই সীমান্তের মানুষ সকল প্রকার পাচারকারীদের পক্ষে গোপনে সোর্সগিরি করে থাকে। বিজিবি ক্যাম্প থেকে বের হলেই নারী পুরুষরা পাচারকারীর কাছে বিজি অভিযানের খবর পৌঁছে দেয় ফলে সকল পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তিনি আরো জানান, গতকাল অভিযানটি সকলের চোখ এড়িয়ে চেষ্টা করি নাস্তিপুরের বিপরিতে পজিশন নেওয়ার এবং আমার চাকরী জীবণে বা এই সীমান্তে এমনকি দেশের বিজিবি’র স্বর্ণ আটকে এটাই সর্ববৃহৎ চালান আটক করা হলো।
এদিকে এঘটনার পর কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার আরশাদ হোসেন সুলতানপুর সীমান্ত পরিদর্শন করেন একং সীমান্তে বিজিবি টহল আরো জোরদার করতে নির্দেশসহ অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদেরকে অভিনন্দন জানান। তিনি আরো বলেন আগামী দিনে এ ধরণের সাফল্য দেখাতে পারলে মোটা অংকের পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন। আটককৃত স্বর্ণেরবার চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারী আফিসে জমা দেওয়ার পর খুব শ্রিঘ্রই বাংলাদেষ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সচেতন মহলের মন্তব্য বর্তমানে দেশের আর্ন্তাজাতিক সোনা পাচারকারীরা চুয়াডাঙ্গা দর্শনার নাস্তিপুর সীমান্তকে নিরাপদ সীমান্ত হিসাবে ব্যবহার করছে।
কমেন্ট বক্স