চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে মুজিবনগর দিবস উদযাপন : হুইপ ছেলুন
নিজস্ব প্রদিকেদক: চুয়াডাঙ্গায় নানা র্যালি, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে মেহেরপুর মুজিবনগরের আ¤্রকাননে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘মুজিব নগর সরকার’ গঠন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবগাঁথা সাফল্য। এ সরকার গঠন করার ফলেই বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। কারণ মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। তাই আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিনটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তিনি এ দিনটির তাৎপর্যসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক প্রেক্ষাপট তরুণ প্রজন্মের কাছে আরো বেশি বেশি করে উপস্থাপন করার আহবান জানান।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার ফরহাদ আহমদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এই ইতিহাস বাদ দিলে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য অনেক কিছু বাদ পড়ে যাবে। একই সাথে মুজিবনগর সরকার গঠন পূববর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী চুয়াডাঙ্গার ইতিহাসেও রয়েছে প্রাণের টান।’ এ সময় তিনি চুয়াডাঙ্গা বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ে জেলাবাসীর সাথে কাজ করার অভিমত ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সেখ সামসুল আবেদিন খোকন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম। অন্যান্যদের মধ্যে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ উল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা (অব: সুবেদার মেজর) সাইদুর রহমান (বীর প্রতীক), সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক হযরত, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ, জেলা পরিষদ সদস্য শহিদুল ইসলাম শাহান, সিনিয়র সাংবাদিক প্রবীণ আইনজীবী তছিরুল আলম মালিক ডিউক। ১৭ এপ্রিল নয় ১৪ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় অস্থায়ী সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের সংবাদ পেয়ে পাক হানাদারদের তান্ডবে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।
এদিকে ভিকুইন্স পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনাসভা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম জিম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মো. শরিফুজজামান চৌধুরী, জাহিদ হোসেন, হাসানুজজামান, মাসুদ রানা প্রমূখ। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি এবং মানুষের মঙ্গল কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষক মো.সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমাদের আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহর ঘুরে উপজেলা হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন, সহকারী কমিশনার ভ’মি সীমা শারমিন, মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ শাহাবদ্দীন সাবু, মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিসেনা মঈনদ্দীন আহম্মেদ, নূর মোহাম্মদ জকু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রশান্ত অধিকারী,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মজিবর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা,প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার প্রমূখ। সভায় বক্তাগণ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকার ছিল যুদ্ধের একটি ভিত্তি। মুজিবনগরের অ¤্রকানন থেকে অস্থায়ী সরকারের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন তৎকালিন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধান মন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহম্মেদ, খন্দকার মোস্তাক আহম্মেদ ,ক্যাপ্টেন মুনছুর আলী ও কামরুজ্জামান। সে সময় শযথ বাক্য পাঠ করানোর কথা ছিল টুয়াডাঙ্গার বর্তমান সদর গাসপাতালের পাশে। তৎকালিন এমএনএ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডাঃ আশাবুল হক হ্যাবার নেতৃত্বে এ আয়োজন সংগঠিত করা হয়েছিল। বিন্তু পাকিস্তান সরকার গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে চুয়াডাঙ্গাতে বেশ কয়েকটি নাপাম বোমা নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা থেকে শপথ অনুষ্ঠান গুটিয়ে মেহেরপুর বৈদ্যনাথতলা অ¤্রকাননে যেটা এখন মুজিবনগর নামে পরিচিত। সেখানে আজকের এইদিনে শপথ পাঠ করানো হয়। তাই বাঙালীর জাতীয় জীবনে এইদিনটির গুরত্ব অপরিসিম।
আমাদের জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে র্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার সময় জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৭ই এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে উপজেলা চক্তর থেকে একটি র্যালিবের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আফাজ উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানসহ উপজেলার সকল কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় আয়োজন।