মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৫ পরিবার

তথ্য সংগ্রহ শুরু, চুয়াডাঙ্গায় নিয়োজিত ৪৮০ তথ্য সংগ্রহকারী
  • আপলোড তারিখঃ ১৩-১০-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৫ পরিবার

চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলা ও পৌরসভা এলাকার ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলায় ৪৮০ জন নিয়মিত তথ্য সংগ্রহকারী ও ৪৮ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে দেশব্যাপী এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় এ কর্মসূচি নিয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।


গতকাল সোমবার বেলা ২টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক উজ জামান। তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪১টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৭১ হাজার ৩৮৫টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১ লাখ ৬ হাজার ৪০৪টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৭ হাজার ২৮৬টি এবং জীবননগর উপজেলায় ৫৬ হাজার ১১টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার আওতায় রয়েছে ২৬ হাজার ৮৮৯টি পরিবার। সব মিলিয়ে জেলায় পরিবারের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৫টি।


তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিয়মিত ৪৮০ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৪৮ জন সুপারভাইজারের পাশাপাশি রিজার্ভ হিসেবে ৪৮ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও চারজন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। ইতোমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।


প্রেস কনফারেন্সে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে কোনো পরিবার যেন বাদ না যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসূচির উদ্দেশ্য, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা, সুবিধার পরিমাণ কিংবা বিতরণের সময়সূচি সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনা ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা উচিত নয়। গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধ, প্রতারণা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।


এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আসিফ হায়দার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, সহকারী পরিচালক আইনাল হক, সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক হিমেল রানা, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মৌমিতা পারভিন, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাঈদ হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক আকবরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান শেষে তথ্য সংগ্রহকারীদের মধ্যে পরিচয়পত্র ও ট্যাব বিতরণ করা হয়।


এদিকে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতিমালা ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে ভার্চ্যুয়াল প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ২টার দিকে উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন। কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। তথ্য সংগ্রহের জন্য দামুড়হুদা উপজেলায় ১৩১ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে।


তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইস ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করবেন। ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশব্যাপী প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানদের এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাসেম, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকেরা।
অপরদিকে, জীবননগর উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে সোমবার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি।


প্রেস কনফারেন্সে ইউএনও জানান, জীবননগর উপজেলায় মোট পরিবারের সংখ্যা ৫৬ হাজার ১২টি। এ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮১ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও আটজন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া, কেডিকে ও মনোহরপুর ইউনিয়নে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


তিনি আরও জানান, সোমবার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে তিনটি ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখার রহমান, কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শামছুল আরফিন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান আলী এবং জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেনসহ অনেকে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচি