আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে উদ্যাপনে চুয়াডাঙ্গার ৬২টি দুর্গামন্দিরে আর্থিক অনুদান দিয়েছে জেলা পরিষদ। প্রতিটি মন্দিরকে ৫ হাজার টাকার একটি করে চেকের পাশাপাশি ১ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল চারটার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্দিরগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে অনুদানের চেক ও মালামাল তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব যেন আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপিত হয়, সে জন্য সবাইকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দুর্গাপূজা উদ্যাপনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
শরীফুজ্জামান শরীফ আরও বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন মন্দির ও শ্মশানের সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সব মন্দিরে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলা পরিষদের এ উদ্যোগে পূজার প্রস্তুতি ও আয়োজনের ক্ষেত্রে মন্দির কমিটিগুলো কিছুটা হলেও সহায়তা পাবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। পূজার আনুষ্ঠানিকতা, মন্দিরের সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির পাশাপাশি উৎসব সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব, জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সমন্বয়ক হেমন্ত কুমার সিংহ রায়, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুরেশ কুমার আগরওয়ালা ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম রঞ্জন দেবনাথ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার সিংহ রায়, জেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক উৎপল কুমার বিশ্বাস অপু, জেলা হিন্দু কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি স্বাধীন অধিকারী ও সদস্যসচিব স্বপন কুমার বিশ্বাস, গণমাধ্যমকর্মী এবং জেলার ৬২টি দুর্গামন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক