জার্মানিতে থিতু হলেও স্বদেশের টান ও পরম মমতায় নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে দেশের বাড়িতে বসতঘর তৈরি করেছিলেন আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস। বেঁচে থাকা অবস্থায় তিল তিল করে গড়ে তোলা সেই স্বপ্নের নীড়েই আজ স্থান পাচ্ছে না তার পিতৃহীন দুই অবোধ সন্তান। ২০১৩ সালে আক্তারুজ্জামানের অকাল মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সেই ভিটেমাটি দখলের অপচেষ্টা চালানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে তার নিজের ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। প্রবাসে অবস্থানের সুযোগ নিয়ে বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় দেশে ফিরেও নিজ ঘরে ঢ়ুকতে পারছে না আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী ও তার দুই নাবালক মেয়ে।
অঝোর ধারায় কেঁদে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই নির্মমতার বিবরণ দেন জার্মান প্রবাসী মোছা. সুবর্ণা মুস্তারী। তিনি জানান, তিনি ও তার প্রয়াত স্বামী আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। আক্তারুজ্জামান জীবিত থাকা অবস্থাতেই আলমডাঙ্গা কাচারী পাড়ায় পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে সুন্দর একটি বসতবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করেন। কিন্তু ২০১৩ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই নাবালক কন্যা সানাইয়া বিশ্বাস ও সোনম বিশ্বাসকে নিয়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েন সুবর্ণা।
তিনি আরও বলেন, আক্তারুজ্জামানের মৃত্যুর পর পারিবারিকভাবে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আইনানুগভাবে শরীকদের মধ্যে বণ্টন সম্পন্ন হয়। এমনকি সুবিধার স্বার্থে বসতবাড়ির অন্যান্য ভাইদের প্রাপ্য অংশটুকুও নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কিনে নেন সুবর্ণা মুস্তারী। ফলে বাড়ি ও জমির একক বৈধ অধিকার তৈরি হয় তাদের। কিন্তু তারা স্থায়ীভাবে প্রবাসে অবস্থান করার সুবাদে এই নিরুপায় অবস্থার সুযোগ নেন সুবর্ণার দেবর অহিদুজ্জামান লেণ্টু ও তার স্ত্রী ডালিয়ারা পারভীন শিলা। তারা সম্পত্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য অপচেষ্টা শুরু করেন।
প্রবাস জীবন থেকে বিরতি নিয়ে গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দুই নাবালক সন্তানকে সাথে নিয়ে দেশে ফেরেন সুবর্ণা মুস্তারী। কিন্তু নিজ বাসায় উঠতে গিয়ে তারা দেখতে পান মূল গেটে বিশাল তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। স্বামীর তৈরি করা বাড়িতে ঢ়ুকতে না পেরে এবং প্রতিপক্ষের হুমকি-ধামকিতে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন এই প্রবাসী নারী। স্থানীয় থানা পুলিশ ও গণমান্য ব্যাক্তিবর্গ একাধিকবার গিয়ে বিষয়টির সমাধান ও তালা খোলার চেষ্টা করলেও তা মানা হয়নি বলে জানান তিনি। এছাড়াও তিনি আরও বলেন, যখনই আমরা দেশে এসে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে চাই, তখনি অকথ্য ভাষায় গালাগালিসহ হুমকি-ধামকি ও নানা ধরনের মিথ্যাচার করা হয়। অথচ, এই বাড়িটি নিয়ে কোনো মামলা চলমান নেই।
সংঘাত এড়িয়ে সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ায় নিজের ও নাবালক সন্তানদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করতে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অবিলম্বে অবৈধ দখল মুক্ত করা, প্রবাস ফেরত পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান এবং এতিম দুটি শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী সুবর্ণা মুস্তারী।
নিজস্ব প্রতিবেদক