আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্রে উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আলমডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরি। উপজেলার বইপ্রেমীদের জ্ঞানচর্চার এই ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রটি এখন চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় লাইব্রেরি সংস্কারের জন্য সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও, সাধারণ পাঠকদের সেবার মানে মেলেনি সামান্যতম সুফল।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরকারি বরাদ্দ ও সংস্কারের পর অবকাঠামোগত কিছু কাজ হলেও লাইব্রেরিটি পরিচালনা ও তদারকিতে রয়েছে সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলা। নির্ধারিত সময়সূচি তো দূরের কথা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও লাইব্রেরি সংশ্লিষ্ট কারও দেখা মিলছে না।
রেসপন্স যাচাই করতে গিয়ে গত সোমবার বিকেল ৫টা থেকে দীর্ঘ সময় লাইব্রেরির সামনে অবস্থান ও অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দেখা পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, কোনো পাঠক জরুরি দরকারে বা তথ্যের জন্য যোগাযোগ করবেন, এমন কোনো নোটিশ বোর্ড বা দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ানের যোগাযোগের নম্বর পর্যন্ত লাইব্রেরির সামনে বা কোথাও টাঙানো নেই। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও পাঠকদের তালাবদ্ধ দরজার সামনে থেকে ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক শরাফত হোসেন রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার থেকে প্রতি বছরই নাকি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় টাকা বরাদ্দ আসে, কিন্তু লাইব্রেরির মূল সমস্যা সেবার নিয়মিততা। লাইব্রেরি কখন খোলা থাকবে, তার নিশ্চয়তা নেই। লাইব্রেরিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও নেই। এভাবে বন্ধ থাকলে কেবল নতুন নতুন সংস্কার প্রকল্প তৈরি করে লাভ কী?’
স্থানীয় সুধীসমাজ ও সচেতন নাগরিকেরা জানান, দীর্ঘ ৪২ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পাবলিক লাইব্রেরিটি আলমডাঙ্গার সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্র। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মতো সরকারি তহবিল ব্যবহারের পরও যদি তা পাঠকের উপকারে না আসে, তবে তা দুঃখজনক। লাইব্রেরিয়ানের যোগাযোগ নম্বর দৃশ্যমান স্থানে টাঙানো, অনতিবিলম্বে নিয়মিত সময়সূচি নিশ্চিত করা এবং চরম গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে লাইব্রেরির ক্যাশিয়ার জানান, লাইব্রেরিয়ান বর্তমানে অসুস্থ। তবে লাইব্রেরিটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে বলে তার কাছেও বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ এসেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে লাইব্রেরিয়ান বাবুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে লাইব্রেরির সার্বিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা