চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নুরনগরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদামে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার কর্মবিরতি ও ধর্মঘট চলার প্রায় চার ঘণ্টা পর বেলা ১টার দিকে শ্রমিকরা কাজে ফিরে গেলে গুদামের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সার লোড-আনলোড কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নির্ধারিত মজুরি ও বকশিশের অর্থ যথাযথভাবে না পাওয়ায় তারা কর্মবিরতিতে যান। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকেরা সারসহ অন্যান্য পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুরনগর কলোনিপাড়ায় অবস্থিত বিএডিসির এ সার গুদামে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকদের দাবি, সারের বস্তা লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে বস্তাপ্রতি নির্ধারিত ৫ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তারা এর চেয়ে কম মজুরি পাচ্ছেন। পাশাপাশি গাড়িপ্রতি শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ বকশিশের অর্থ থেকেও টাকা কর্তনের অভিযোগ করেন তারা। এসব দাবিতে কর্মবিরতি চলাকালে একপর্যায়ে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ধর্মঘটের খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে যান কুষ্টিয়া বিএডিসির সহকারী পরিচালক (সার) মহিউদ্দিন মিয়া। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে বিষয়গুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন। পরে শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যান।
কুষ্টিয়া বিএডিসির সহকারী পরিচালক (সার) মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘শ্রমিকদের সঠিক মজুরি দেওয়া হচ্ছিল। তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কিছু দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে। বর্তমানে গুদামের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে, কোনো সমস্যা নেই।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সকালে সার গুদামে শ্রমিকদের ধর্মঘট থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন এবং সার লোড-আনলোড কার্যক্রম চলছে। এসময় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি (অপারেশন) সাইদ হোসেনসহ সার ডিলারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক