‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’- এই প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গায় বিশ^ মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠান ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
আলোচনা সভায় শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের অপরিহার্যতা তুলে ধরা হয়। জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম) খাওয়ানো এবং জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ পান করানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, মাতৃদুগ্ধ একটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘এক সময় কেউ ভাবেনি যে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করতে হবে বা এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। শিশুর মায়ের দুধ পান করাই প্রকৃতির নিয়ম। সৃষ্টিকর্তার অপার রহমত হলো মাতৃদুগ্ধ। কিন্তু মর্ডান যুগের মর্ডান মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে চায় না, কিন্তু জন্মের পর মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধই খাওয়াতে হবে। অনেকেই সন্তান জন্মের পর বাইরে থেকে দুধ কিনে খাওয়ান, যা ঠিক নয়। নবজাতকের পাকস্থলী খুবই ছোট থাকে। তাই অল্প অল্প করে মায়ের বুকের দুধ পান করালেই শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় এবং সে সুস্থ-সবলভাবে বেড়ে ওঠে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই। বাইরে থেকে দুধ খাওয়ানোর ফলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘একটি শিশুর সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পর শিশুর প্রথম খাদ্য শালদুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এবং তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাতৃদুগ্ধ শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মা ও শিশুর মধ্যে গভীর বন্ধন সৃষ্টি করে। তাই মায়ের দুধ খাওয়ানো নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কার দূর করতে স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং সমাজের সচেতন মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার মায়েদের কাছেও মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা ও সঠিকভাবে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।’
এসময় বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. দীপক কুমার সাহা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি, সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিমেল রানা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাকির হোসেনসহ উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শেষে ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের পুষ্টিবিষয়ক উন্মুক্ত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ‘মা ও শিশু পরিবার’ বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক