গুলশান আরা খাতুন নামে এক শিক্ষক জাল এনটিআরসিএ সনদে চাকরি করছেন ১৫ বছর। ২০০৬ সালে মন্ত্রণালয়ের অডিটে ধরা পড়ার পরও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকরীতে বহাল আছেন। আবার ২০১৩ সালে বৈধ সনদ অর্জন করে কি ভাবে তিনি নতুন নিয়োগ ছাড়াই পুরানো ইনডেক্স ব্যবহার করে ‘চাকরি’ করে যাচ্ছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এমন চাঞ্চল্যকর ও জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ঘোড়াগাছা লাল মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৯ জুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে আবেদন করেন মোছা. গুলশান আরা খাতুন। ২০ জুলাই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরের বছরের ১ নভেম্বর তিনি এমপিওভুক্ত হন (ইনডেক্স নম্বর ১০৬৯৬২১)। পরবর্তীতে তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার এস.এম ছায়েদুর রহমান কাগজপত্র যাচাইকালে তার ২০০৬ সালের এনটিআরসিএ সনদটি (রোল: ১২০৪০৫৯০) জাল হিসেবে শনাক্ত করেন।
জাল সনদ প্রমাণের পর তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে বাধ্য হয়ে গুলশান আরা নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে উত্তোলিত ৩২ হাজার ১৪০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেন। তবে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলা হওয়ার কথা থাকলেও, রহস্যজনক কারণে তৎকালীন সভাপতি আক্তারুজ্জামান ও প্রধান শিক্ষক নজির উদ্দিন তাকে ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বরে ‘অস্থায়ী নিয়োগ’ দিয়ে রেখে দেন।
পরবর্তীতে গুলশান আরা খাতুন ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বৈধ এনটিআরসিএ সনদ অর্জন করেন। এরপর তৎকালীন স্কুল এবং আওয়ামী লীগের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সভাপতি মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দার প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেমের সহায়তায় কোনো নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ২০১১ সালের সেই জাল সনদের ইনডেক্স ব্যবহার করে ২০১৬ সালের ১ জুলাই স্থায়ী নিয়োগ দেন, যা শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
অভিযোগ স্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষিকা গুলশান আরা বলেন, ‘প্রথম নিয়োগের সময় দাখিলকৃত ২০০৬ সালের সনদটি জাল ছিল। তবে ২০১৩ সালে বৈধ সনদ অর্জনের পর ২০১৬ সালে ম্যানেজিং কমিটি রেজুলেশনের মাধ্যমে চাকরি স্থায়ী করেছে।’
বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারী জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এই শিক্ষা কর্মকর্তা আরো জানান, জাল সনদ ধরা পড়ার পর ওই শিক্ষিকার চাকরি থেকে বরখাস্ত করা উচিৎ ছিল। কিন্তু তা না করে ম্যানেজিং কমিটি চরম ভুল ও অন্যায় করেছে।
এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় দীপন জানান, অনিয়মের প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি ১৫ বছর আগের হলেও তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঝিনাইদহ অফিস