চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সাথে জেলার গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা তিনটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুশল বিনিময়ের পর নবাগত জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের কাছে জেলার সার্বিক বিষয় জানতে চান, এবং জেলার সমস্যা ও সমস্যার সমাধানের ব্যাপারেও আলোকপাত করতে বলেন।
এসময় সাংবাদিকবৃন্দ জেলার নানা সমস্যা ও সমস্যার সমাধান তুলে ধরেন। জেলার রেলওয়ে ওভারপাস, হাসাপাতাল, অদক্ষ অটোরিকশা চালক, যানজট, নদী দূষণ দখল ও শিক্ষাসহ জেলার নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘একটা ক্রান্তিকালের মধ্যে নবাগত জেলা প্রশাসকের আগমন। এখন আমাদের জ্বালানি প্রথম প্রায়োরিটিতে, এবং তিনি সেটা নিয়েই কাজ করছেন। এই জ্বালানির সাথে কৃষি জড়িত। তাই জ্বালানি সরবরাহে কৃষককে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। সার এবং বীজ এটাতেও মূল ফোকাস করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, শহরকে পরিষ্কার করতে হবে, রাস্তার দুই পাশটা পরিষ্কার করে দিতে হবে। নদী দূষণের দিকেও একটু দেখবেন। এছাড়াও জেলার হাসপাতালটা ৫০ শয্যার এখন। ২৫০ শয্যার ভবন থাকলেও তার অনুমোদন নেই। এটা যদি প্রশাসনিকভাবে অনুমোদন নেওয়া যায়, তবে জেলাবাসীর জন্য অনেক উপকার হবে। জেলার টিটিসিকে আরও উন্নত করার ব্যাপারেও প্রস্তাব রাখেন তিনি।
নবাগত জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘আপনাদের কাছে জেলার অনেক সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে শুনলাম জানলাম। এবং সবগুলো নোটও নিয়েছি। একবারে তো সবগুলোর সমাধান আমি করতে পারব না। আমাকে আপনারা ৭টি বিষয় দিন, এবং উক্ত ৭টি বিষয়ে আপনারা আমাকে খোঁচাবেন কাজ হলো কি হলো না।’
তিনি বলেন, ‘আমি এখাসে আসার আগেই শুনেছি, এই জেলাতে স্বাস্থ্য সেবার মান খুবই খারাপ। এবং আমি এখানে এসেই প্রথমে ওভারপাস নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ধীরে ধীরে সকল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।’ জেলা প্রশাসক বলেন, অবৈধ দখল ও পরিষ্কারের ব্যাপারে পৌরসভা খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করবে। আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে তেলের কোনো ক্রাইসিস নেই। আমাদের অসাধুতার ফলেই এমন হয়েছে। ফুয়েল ক্রাইসিস শব্দটা ব্যবহার করার পক্ষে আমি না।’
নবাগত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনাদের সকলের সহযোগিতায় এই জেলার উন্নয়নে আমরা ভূমিকা রাখবো। আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনারা গণমাধ্যমকর্মী, আপনাদের কাছে অনেক সময় অনেক রকম তথ্য থাকে, আপনারা আমাদের সেই তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সহজ হয়ে যাবে।’
এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি.এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নয়ন কুমার রাজবংশী, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাবেক সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মানিক আকবর, দৈনিক পশ্চিমাঞ্চলের সম্পাদক ও প্রকাশক আজাদ মালিতা, যমুনা টিভির জেলা প্রতিনিধি জিসান আহমেদসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। সভা শেষে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক