জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল অঙ্গীকার ছিল শোষণ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, দলীয় স্বৈরাচার ও আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সেই অঙ্গীকারকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। এরই পরিণতিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বাগেরহাটে জেএসডির নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে- বাংলার মানুষ আর বৈষম্য, নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র মেনে নেবে না। জাতীয় সনদ সেই আকাঙ্ক্ষারই রাজনৈতিক রূপ, আর গণভোট তার সাংবিধানিক ভিত্তি। যারা রাষ্ট্র সংস্কারবিরোধী, তারা ইতিহাসের কাঠগড়ায় বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, তাত্ত্বিক সিরাজুল আলম খানের প্রস্তাবিত অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্রই দেশের বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ। এই ব্যবস্থায় জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। এতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকৃত হবে, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
তিনি রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও শাসনব্যবস্থার রূপান্তরের লক্ষ্যে একাত্তর ও ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের সংগ্রামে শামিল হতে বাগেরহাটবাসীর প্রতি ‘তারা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী পথসভায় জেএসডির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য তৌহিদ হোসেন বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার মানে শহিদদের রক্তের ঋণ শোধের প্রক্রিয়া শুরু করা। আর এই প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখা মানেই ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়—এটি জনগণের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সংগ্রামের অংশ। ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশকে সরকার পরিবর্তনের গণ্ডিতে আটকে না রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এগিয়ে নিতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
নিজস্ব প্রতিবেদক