চুয়াডাঙ্গায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বলা হয়, ধান, সবজি, মাসকলাই ও অন্যান্য ফসলের আবাদ উৎপাদনে স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ডিলারদের বরাদ্দ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করতে হবে। তামাক চাষিরা কৃষক বলে গণ্য হবে না। তারা সারে কোনো প্রকার ভর্তুকি পাবে না।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, কৃষকেরা যাতে পরিপূর্ণ সার পায় তার জন্য কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলারদের যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সার বিতরণের সময় যাতে কোনো রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, তার জন্য গ্রাম পুলিশ ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সহযোগিতা প্রয়োজন। জেলার কোনো তামাক চাষি স্যারের ভর্তুকি পাবেন না। প্রতিবছর সরকার সারে ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। যদি কোনো তামাক চাষি সার কিনতে চায় তাকে ১০৪ টাকা কেজি সার কিনতে হবে। তাছাড়া সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যারাই সাজাপ্রাপ্ত হবেন তাদের ডিলারশিপ বাতিলের জন্য প্রস্তাব পেশ করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষ্ণ রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আরা, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনিসুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার নুরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি ও জেলার বিএডিসি ও বিসিআইসি সার ডিলাররা।
সভার শেষে জানা যায়, চলতি মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ইউরিয়া সার বরাদ্দ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৬৪ মেট্রিক টন। বর্তমানে ইউরিয়া সার মজুত আছে ৪ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন। টিএসপি সার বরাদ্দ করা হয়েছে ২ হাজার ৪২ মেট্রিক টন। বর্তমানে টিএসপি সার মজুত আছে ৮৮৩ মেট্রিক টন। ডিএপি সারের বরাদ্দ করা হয়েছে ৩ হাজার ২৪৬ মেট্রিক টন। বর্তমানে ডিএপি সার মজুত আছে ৮১২ মেট্রিক টন। চলতি মাসে এমওপি সারের বরাদ্দ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন। বর্তমানে এমওপি সার মজুত আছে ১ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন।
নিজস্ব প্রতিবেদক