হাওর-বাঁওড়-বিলসহ দেশের সকল জলমহালের ইজারা প্রথা বাতিল করে প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অনুকূলে দেওয়ার দাবিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বরাবরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটি। গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বাওড় মৎস্যজীবী আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সংগঠক শেখ ফরিদ আহমেদ এবং চুয়াডাঙ্গা দলকা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ওরস আলী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, সরকারের ঘোষিত ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ইজারার মাধ্যমে জলাশয় দখল করে নিচ্ছে। এতে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জলমহালের ইজারা প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল করে সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে জেলেদের সঙ্গে অংশিদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষের সুযোগ দেওয়া, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জাতীয় ডাটাবেইজ করে ‘জেলে কার্ড’ প্রদান ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা এবং জলমহালে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ষাটোর্ধ্ব জেলেদের জন্য পেনশন চালু করা।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রভাবশালীরা লাভবান হলেও প্রকৃত মৎস্যজীবী পরিবারগুলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই রাষ্ট্রীয় নীতি অনুসারে জলমহালের মালিকানা জেলেদের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে জীবন-জীবিকা ও সরকারের রাজস্ব উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক