দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে স্বজনের কাছে ফিরলেন ভারত থেকে ফেরত আসা ২২ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দর্শনা থানা পুলিশ তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে। এসময় ভাই-বোন, মা-বাবা ও সন্তান একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে ও আবেগে কেঁদে ফেলেন। এর আগে গত বুধবার দুপুরে দর্শনা সীমান্তের ৭৬ নম্বর পিলারের পাশে বিজিবি ও বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত দেওয়া হয়। পরে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে তারা দেশে প্রবেশ করেন এবং থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।
ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানান, দালালরা মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি ও কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের অবৈধভাবে ভারতে পাঠায়। সেখানে কেউ হায়দরাবাদের পার্লারে, কেউ উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশে বিভিন্ন কাজে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। কিন্তু প্রবাসজীবনের কষ্টে ও অনিশ্চয়তায় ভরা দিন শেষে তারা দেশে ফেরার সুযোগ পান।
ফেরত আসা ২২ জনের মধ্যে রয়েছেন- নোয়াখালী জেলার সুমাইয়া খাতুন (১৯), বরিশাল জেলার মিম খাতুন (১৫), নোয়াখালী জেলার আইরিন খাতুন (১৭), একই জেলার উম্মেহানি সাবু (১৮), গাজীপুর জেলার মিম খাতুন (২০), খুলনা জেলার শাহিদা আকতার (২৪), একই জেলার আফরিন বিবি (৩০), বরিশাল জেলার আবেদা খাতুন (২০), নরসিংদী জেলার শিউলি বিবি (৩৩), চুয়াডাঙ্গা জেলার রওশনারা খাতুন (২৩), পিরোজপুর জেলার মুন্নি খাতুন (২৪), চট্টগ্রাম জেলার, রোমান হক (২৪), শরীয়তপুর জেলার রাশেদ আলী, (২৩) বাগেরহাট জেলার আলাউদ্দিন (২২), খুলনা জেলার আরিফ (৩১) নড়াইল জেলার হাবিব রহমান (৩৪), খুলনা জেলার তারেক (৩০), নড়াইল জেলার রোমান আজিজ (৩৫), ঢাকা জেলার কৃষ্ণচন্দ্র রায় (২৬), একই জেলার সালাউদ্দিন (৫০), নওগা জেলার সাথী পারভিন (৩৪) ও ঠাকুরগাঁও জেলার আরমান হোসেন (২৩)।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহীদ তিতুমীর জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ফেরত আসা সকলকে তাদের অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দর্শনা অফিস