দর্শনা সীমান্তের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের বিপরীতে ভারতের (গেদে) অংশে গত শনিবার বাংলাদেশি এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হতে যাচ্ছে। তবে এখনও লাশ ফেরত পায়নি তার স্বজনেরা। দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টে অপেক্ষা করছেন লাশ কখন আসবে। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন চেষ্টা করছে, বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়ন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে লাশ ফেরত আনার জন্য।
দর্শনা ইমিগ্রেশন অফিস সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর থানার বারোথাদা গ্রামের শ্রী অদিত্য কুমারের ছেলে শ্রী ভরত কুমার (৬২) গত ২২ জুলাই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তিনি গত শনিবার চিকিৎসা শেষে দেশ ফেরার উদ্দেশ্যে গেদে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করেন। তবে বেলা দুইটার দিকে বিএসএফ চেকপোস্ট পার হওয়ার সময় তিনি মারা যান।
এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তির লাশটি কখন আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে মৃত ব্যক্তির ভাতিজার কাছ থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি কৃষ্ণগঞ্জ থানা থেকে মৃত ব্যক্তির লোকজন এনওসি পেয়েছে, নদীয়া হসপিটাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছে ও লাশ নদিয়া হসপিটাল মর্গে আছে। সোমবার অ্যাম্বেসি থেকে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর লাশ বাংলাদেশে আসবে।
ভরত কুমারের ভাতিজা আশিষ কুমার পাল জানান, শনিবার মৃত্যুর খবর শুনে দর্শনা চেকপোস্টে চলে আসি এবং সেই থেকে লাশটি আনার চেষ্টা করছি। আজ সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। লাশ কখন আসবে কে জানে। তিনি বলেন, ‘আমার জেঠাতো দাদা ওপাশে আছে শুনেছি। লাশের অবস্থা খারাপ, পচতে শুরু করেছে। কাকার লাশ আজও পাবো কিনা বুঝতে পারছি না।’
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এসআই মো. তারিক জানান, ‘ভারতীয় বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত লাশ আসার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানায়নি।’ চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা লাশ আনার চেষ্টা করছি। আমরা উচ্চপর্যায়ে কথাও বলেছি। শনিবার ঘটনাটি ঘটার পর থেকে বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করে চলেছি। ভারতীয় বিএসএফ আমাদের বলেছেন, তাদের অংশে মারা গেছে। এ জন্য লাশটি থানায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশি কার্যক্রম শেষ হলেই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদক