দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের তেঁতুল মণ্ডলের মেয়ে তানিয়ার (ছদ্মনাম) ১০ বছর আগে বিয়ে হয় নাটুদাহ চন্দ্রবাস গ্রামের ফারুক হোসেনের সঙ্গে। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ফারুক বিদেশে যান। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল, তবে এক বছর আগে ফারুকের বন্ধু চুয়াডাঙ্গা হাটকালুগঞ্জের আয়ুব আলীর ছেলে বিপুর সঙ্গে তানিয়ার পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিপু নানা কুৎসা রটিয়ে ফারুককে জানায় যে সে তানিয়াকে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। পরবর্তীতে ফারুক মোবাইল ফোনে তানিয়াকে তালাক দেন।
চার মাস আগে ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে বিপু তানিয়াকে বিয়ে করে। বিয়ের পর তানিয়ার পরিবার বিপুকে ২ লাখ টাকা ঋণ দেয় এবং নগদ ১ লাখ টাকা দেয় মেয়ের সুখের কথা ভেবে। কিন্তু কিছুদিন পর বিপু জানায় সে তানিয়াকে তালাক দিয়েছে, যদিও কোনো কাগজপত্র দেয়নি। দুই মাস আগে বিপু আবারও স্থানীয় এক কাজীর মাধ্যমে ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে তানিয়াকে বিয়ে করে। অভিযোগ অনুযায়ী, এবারও কিছুদিন পর থেকে বিপু তানিয়াকে নানাভাবে নির্যাতন শুরু করে এবং যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। তানিয়ার মা জানান, তারা তখনও জানতেন না যে বিপুর আগে থেকেই তিনটি বিয়ে রয়েছে।
ঘটনার একপর্যায়ে মানসিক চাপে তানিয়া গত বৃহস্পতিবার বিষপান করেন। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরের দিন শুক্রবার তানিয়া ও তার মা বিপুর ভাই উজ্জল ও মা উজিলার খোঁজে গেলে, তারা মিলে মা-মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ।
তানিয়া জানান, বর্তমানে বিপু নানা রকম হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় গত শনিবার দামুড়হুদা মডেল থানায় তানিয়া বাদী হয়ে বিপু ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিপুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্র্জ (ওসি)) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিবেদক কার্পাসডাঙ্গা