আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের কৃতী সন্তান, হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে নিজ বাসভবন চন্দ্রপ্রভায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাঁকে দ্রুত আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পথের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ৭১ বছর বয়সে একাত্তরের রণাঙ্গনের এই অকুতোভয় সৈনিক চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আলমডাঙ্গা উপজেলার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আবুল কাশেম মাস্টার দীর্ঘদিন হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে তিনি ছিলেন এলাকায় সমাদৃত ও সুপরিচিত নাম। তার লেখা কবিতা, প্রবন্ধ ও সাহিত্যকর্ম স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্র, সাহিত্য ও সমাজচিন্তায় ছিল তাঁর সমান পদচারণা। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকার পাশাপাশি দেশের ইতিহাসেও নিজেকে অমর করে রেখেছেন। আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও কল্যাণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এরপর নগর বোয়ালিয়া-হাটবোয়ালিয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
এদিকে, আবুল কাশেম মাস্টারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ। এক শোকবার্তায় সংগঠনের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজ, সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম, উপদেষ্টা হামিদুল হক মুন্সি, সিদ্দিকুর রহমান, মুন্সী আবু সাইফ, সহসভাপতি সরদার আলী হোসেন, তৌহিদ হাসান এবং সহসম্পাদক মেহেরাব্বিন সানভী মরহুমের অবদান গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। আবুল কাশেম মাস্টারের এই মৃত্যুতে আলমডাঙ্গা হারালো একজন আলোকবর্তিকা, যে আলোর দীপ্তি আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে
ভ্রাম্যমান প্রতিবেদক,আলমডাঙ্গা