চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপিতে কথার মধ্যে ধর্মীয় ইস্যু ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সদর উপজেলার দর্শনা থানাধীন গড়াইটুপি বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেন। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সময় আহত ব্যক্তিরা প্রথমে ঘটনা গোপন করেন। তারা দাবি করেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। পরে চিকিৎসা নিতে নিতে তারা স্বীকার করেন, ধর্মীয় বিষয়ে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির জেরে তারা আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, গড়াইটুপি গ্রামের সন্যাসী অধিকারী (৪৫), একই গ্রামের লিটন বিশ্বাস (৪৪) ও শ্যামল কুমার বিশ্বাস (৪৯)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় সোনা অধিকারীর ছেলে সন্যাসী অধিকারীর সঙ্গে একই গ্রামের লিটন কর্মকারের ধর্মীয় একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। প্রথমে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, পরে হাতাহাতি হয়। এতে সন্যাসী অধিকারীর চোখের কোনায় আঘাত লাগে। এরপর রাত আটটার দিকে সন্যাসীর ছেলে হৃদয় অধিকারী কাঠের বাটাম হাতে এসে লিটন ও তার ভাই শ্যামল বিশ্বাসের ওপর অতর্কিতে চড়াও হয়। হামলায় লিটনের মাথায় আঘাত লেগে ফেটে যায়, সঙ্গে একটি পা ভেঙে যায়। শ্যামল বিশ্বাসেরও মাথা ফেটে গুরুতর জখম হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তিনজনকেই উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আহত তিনজন হাসপাতালে এলে তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। একজনের পা হাড় ভেঙেছে। বাকি দুজনের মাথা ও কপালের জখমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।’