২০২৪-এর জুলাই ছাত্র-জনতার গণহত্যার বিচার দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে মিছিলটি শহরের বড় বাজার থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ হাসান চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সাগর আহমেদ। বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি হাফেজ আমিরুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে সাগর আহমেদ বলেন, ‘আজ আমরা ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল মাস জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে রাজপথে দাঁড়িয়েছি। এই জুলাই প্রহরের মিছিল শুধু স্মরণ নয়, এটি জবাবদিহি, প্রতিবাদ এবং প্রতিশোধের ঘোষণা। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল- এই জাতি অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণবাজারের বিরুদ্ধে একযোগে দাঁড়াতে জানে। এই বিপ্লব শুধু ছাত্র নয়- শ্রমজীবী, কৃষক, শিক্ষক, ওলামা, নারীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত হয়েছিল। তারা লড়েছিল অবিচার, বৈষম্য, ইসলামবিদ্বেষ ও রাষ্ট্রীয় দমন-নীতির বিরুদ্ধে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও কষ্টের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, এই বিপ্লবের রক্তভেজা রাজপথ দিয়ে হাঁটার পরও কিছু স্বার্থান্ধ গোষ্ঠী জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে দলীয় হীনস্বার্থে ভোগ করছে। তারা আত্মত্যাগকে অসম্মান করছে, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সম্মানকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে চাচ্ছে। তাদের প্রতি আমাদের হুঁশিয়ারি- যদি এখনই আত্মসমালোচনা করে সংশোধন না করেন, বিপ্লবের মূল চেতনায় ফিরে না আসেন, তবে আমরা আরেকটি বিপ্লবের পথে যাব। শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
সাগর আহমেদ বলেন, ‘আজকের এই মিছিল থেকে আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলছি- ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করতে হবে জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। চাঁদাবাজি ও স্বার্থলোভী দলের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। বিপ্লববিরোধীদের রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে নির্মূল করতে হবে। ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। চাঁদাবাজ, সুবিধাবাদী ও বিপ্লববিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’
জেলা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক হাফেজ মাসুম বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী, চুয়াডাঙ্গা পৌর সভাপতি রাব্বি হাসানসহ ছাত্রশিবিরের অন্যান্য দায়িত্বশীল ও কর্মীবৃন্দ।
নিজস্ব প্রতিবেদক