চুয়াডাঙ্গায় জিহাদ আলী (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ টাকা ফেরত চাওয়াই দোকান মালিককে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার এ ঘটনায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে (চুয়াডাঙ্গা সদর) জিহাদ আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধি আইন ১০৭/১১৭ এর ৩ ধারায় অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী দোকানমালিক অভি হোসেন। অভিযুক্তদের মধ্যে জিহাদ চুয়াডাঙ্গা পৌর মাঝেরপাড়ার মৃত সাইফুল ইসলামের ছেলে, জিহাদের মা আল্লাদী (৩৮), একই এলাকার লিপনের স্ত্রী রেশমা (৪০) ও মৃত হাকিমের ছেলে সহিদুল (৬০) রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শহরের বড় বাজারে অভি হোসেনের প্রতিষ্ঠান অভি ফুডের কর্মচারী জিহাদ আলী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল। এরই মধ্যে গত এপ্রিল মাসে দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ টাকা নিয়ে পালানোর সময় জিহাদকে হাতেনাতে ধরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এসময় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী অভি হোসেন। অভিযোগের পর বাদী অভি হোসেন ও বিবাদী জিহাদ আলী দুই পক্ষের লোকজনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের উপস্থিতিতে গত ১ মে অর্থ পরিশোধ করার শর্তে আপস করেন। ওই আপসে টাকা পরিশোধ করার শর্ত মেনে নেন জিহাদ আলী ও তার পক্ষে অন্য আসামিরা। তবে আপস করে আসলেও আপসনামার শর্ত না মেনে হয়রানি করছিলো কর্মচারী জিহাদ।
অভিযোগে ভুক্তভোগী অভি আরোও উল্লেখ করেছেন, গত ২৩ মে জিহাদ ও তার মাসহ মামলার বিবাদী পক্ষের লোকজন থানায় করা আপসনামা অস্বীকার করে এবং চুরিকৃত টাকা ফিরিয়ে দেবে না বলে জানায়। একই সঙ্গে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা অভিকে খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী অভি হোসেন বলেন, ‘একবার টাকা চুরি করে পালিয়ে গিয়েছিল জিহাদ। পরে হাতেনাতে আটকের পর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এসময় জিহাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিতে এবং অনুরোধ ছেলেটি লোভে পড়ে ভুল করেছে মনে করে আপস করার জন্য আমি রাজি হই। আপোসের শর্ত অনুযায়ী, ২ মে তারিখে ১টি ব্যাংক চেক প্রদান করার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা না করে আমাকে হয়রানি করে আসছিলো। এখন তারা আপসনামাই অস্বীকার করছে এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। তাই নিরাপত্তাহীনতায় এবং সঠিক বিচারের আশায় আদালতে মামলা করতে বধ্য হয়েছি। এখন আদালতই ন্যায় পাইয়ে দেবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক