জীবননগরে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ করে সফল হয়েছেন আশরাফুল ইসলাম। প্রথম বছরেই ভালো ফলন পেয়ে তিনি আগামী বছর আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের পরিকল্পনা করছেন। জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের মাঝেরপাড়ার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম পেশায় ছিলেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। ২০২০ সালে ব্যবসা ছেড়ে নিজ গ্রামের জমিতে পেয়ারা, ড্রাগন, মাল্টাসহ নানা ফলের বাগান গড়েন। ২০২৪ সালের বৈশাখ মাসে তিনি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি আঙুর বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা দরে। তার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর ও একোলো প্রজাতির আঙুর। বাগান তৈরিতে ব্যবহার করেছেন বাঁশ, সুতা, সিমেন্টের পিলার ও নেট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তার বাগানে প্রায় ৭৫০টি এক বছর বয়সী আঙুর গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় লাল ও সবুজ রঙের আঙুর ধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ১০-১২ কেজি ফল এসেছে। প্রতিদিন তার বাগান দেখতে ভিড় করছেন অনেক দর্শনার্থী। তিনি দর্শনার্থীদের নিজ হাতে বাগান থেকে আঙুর তুলে খাওয়াচ্ছেন। অনেকেই মন্তব্য করছেন, এই আঙুর বিদেশি আঙুরের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে আরও সুস্বাদু।
আঙুরচাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আঙুর ছাড়াও বাগানে রয়েছে মাল্টা, কমলা, পেয়ারা, ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফলের গাছ। প্রথম বছরে বাগান তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। যদিও দেশ-বিদেশ থেকে চারা সংগ্রহে বেশি খরচ হয়েছে, এখন আমি নিজেই চারা উৎপাদন করছি।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি চারা রোপণের জন্য ৪.৫ ফুট বাই ৬ ফুট দূরত্ব রাখতে হয়। জৈব সার বেশি দিতে হয়, রাসায়নিক সার বছরে একবার-বিশেষ করে বর্ষাকালে প্রয়োগ করতে হয়। পোকামাকড়ের আক্রমণ বুঝে মাসে একবার কীটনাশক দিতে হয়। গাছ লাগানোর এক বছরের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়। এখন তার বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির আঙুরের চারা রয়েছে, যার দাম ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।
মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামের ইমরান কায়সার রুবেল বলেন, ‘বিদেশি ফল আঙুরের চাষ হচ্ছে জীবননগরে-এটা জেনে ভালো লেগেছে। বাগানে গিয়ে নিজ হাতে গাছ থেকে আঙুর ছিঁড়ে খেয়েছি। খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু।’ হাসাদহ গ্রামের আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আবহাওয়া, মাটির ধরন এবং চাষের জ্ঞানের অভাবে অনেকেই আঙুর চাষে আগ্রহী হন না। কিন্তু আশরাফুল ইসলাম যে ফলন পেয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেকে এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এ বছর জীবননগরে ৩০ বিঘা জমিতে আঙুর চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে আশরাফুল ইসলামের বাগানে সবচেয়ে বেশি ফল এসেছে। তার বাগান পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। জীবননগরের মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী।’
সমীকরণ প্রতিবেদন