শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জমি ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রবাসী ফাকের

  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৪-২০২৫ ইং
জমি ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রবাসী ফাকের

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কর্নেল মকসুদুল হাসান এবং প্রফেসর জিয়াউল আহসান মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে এক প্রবাসীর কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আলমডাঙ্গা উপজেলার মোড়ভাঙ্গা গ্রামের তামাক ব্যবসায়ী ও সৌদি প্রবাসী ফাকের আলী (৫৬)। তিনি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি তার ৭০ শতক জমি ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

গতকাল রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে নিজের দুর্দশার বিবরণ তুলে ধরে ফাকের আলী জানান, ২০০৪ সালে গাংনীর ধানখোলা বাজারের ব্যবসায়ী জিয়াউল মিয়া ও সাজ্জাদ মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার গুড়া তামাক বাকিতে ক্রয় করেন। পরে ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে তাদের টাকা পরিশোধে বিলম্ব হয়। একপর‌্যায়ে তিনি সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতির সময় ঋণের দায় স্বীকার করে কিছু সময় চাইলেও তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

ফাকের আলীর অভিযোগ, জিয়াউল মিয়া ও সাজ্জাদ মিয়া তাকে বলেন, পাওনা টাকার নিরাপত্তায় গাংনীর ৪২/৪৬ নম্বর চৌগাছা মৌজার ৩১৮৮ ও ৬৭৫৫ দাগসহ মোট ২৫টি দাগে থাকা ৭০ শতক জমি তাদের নামে লিখে দিতে হবে। তারা প্রতিশ্রুতি দেন, প্রবাস থেকে টাকা ফেরত পেলেই জমিটি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফাকের আলী আরও বলেন, ‘আমি প্রভাবশালী পরিবারের ওপর আস্থা রেখে মাত্র ৫৩ হাজার টাকায় কোটি টাকার জমি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দিই। কিন্তু প্রবাসে যাওয়ার পর টাকা পরিশোধ করলেও তারা জমি ফেরত দেয়নি। বরং কর্নেল মকসুদুল ফোনে হুমকি দেন, জমির কথা বললে স্বপরিবারে গুম করে দেওয়া হবে।’

ঘটনার পর সম্প্রতি গাংনী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে স্থানীয়ভাবে ২ এপ্রিল একটি সালিশ বসে। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয়দের সামনে প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে মোবাইল রেকর্ডিং শুনে জিয়াউল মিয়া জমি ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। জিয়াউল মিয়া বলেন, ‘তাঁর (ফাকের আলীর) কাছে যদি প্রমাণ থাকে, দেখাক। তবে কথা ছিল, দুই বছরের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে হবে। এখন ১৫ বছর পর এসে জমি ফেরত চাচ্ছে। বিষয়টি কর্নেল মকসুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলে জানাবো।’

মৃত সাজ্জাদ মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া বলেন, ‘ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পর্কে কিছু জানি না। জমি ফেরত দেওয়ার বিষয়েও কিছু বলতে পারছি না।’ এ বিষয়ে জানতে সাবেক কর্নেল ও আওয়ামী লীগ নেতা মকসুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

ঝিনাইদহে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩টি পুকুর বেদখল