শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

অন্ধত্ব থামাতে পারেনি আরশাদ আলীকে, করেন সব কাজ

  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৪-২০২৫ ইং
অন্ধত্ব থামাতে পারেনি আরশাদ আলীকে, করেন সব কাজ

আরশাদ আলীর দুই চোখই অন্ধ। ছোটবেলায় গুটি বসন্তে চোখের আলো হারান তিনি। মাত্র ৬ বছর বয়সে শুরু হয় তার জীবন-সংগ্রাম। অন্ধত্ব থামাতে পারেনি তাকে। সাময়িক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও দৃষ্টিহীনতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আর ১০ জন মানুষের মতোই নিত্যদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করে যাচ্ছেন অদম্য আরশাদ আলী। গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটা, পরিবারের জন্য বাজার সদাই, সংসারের খুঁটিনাটি কাজ এবং ব্যক্তিগত কাজ সবই স্বাভাবিকভাবে করেন তিনি।

দুই চোখে দেখতে না পারলেও অন্তরের আলো দিয়েই তিনি পথ চলেন প্রতিনিয়ত। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানি ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে আরশাদ আলী। বিবাহিত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের পিতা। আরশাদ আলী জানান, ১৯৭২ সালে তার বয়স যখন ৬ বছর, তখন পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে গুটি বসন্ত। মহামারি রোগে গ্রামের অন্তত ১৮-২০ জন মানুষ মারা যান। সে বছরই গুটি বসন্তে আক্রান্ত হন তিনি। সঠিক চিকিৎসার অভাবে চিরতরে হারান চোখের দৃষ্টি। সেই থেকেই শুরু হয় তার অন্ধত্ব নিয়ে পথচলা।

তার মা আইজান নেছা বলেন, ছোটবেলায় চোখ হারানোর পর আরশাদ অনেক কষ্টে বড় হয়েছে। প্রায়ই চোট পেতো, দুর্ঘটনার শিকার হতো। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে এক বিস্ময়কর মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। এখন নিজের ও সংসারের সব কাজ নিজ হাতে করেন তিনি। হলিধানি ইউনিয়নের মেম্বার সাদ আহম্মেদ বলেন, প্রতিদিন সকালে গবাদি পশুর জন্য ঘাস নিজ হাতে কাটেন আরশাদ। সেই ঘাস সংগ্রহ করতে তিনি বাড়ি থেকে অনেক দূরের মাঠে যান এবং কাজ শেষে একাই ফিরে আসেন। কাজ করতে গিয়ে কারো সহযোগিতা নেন না। অনুমানের ওপর নির্ভর করে পথ চলেন।

রামনগর গ্রামের সমাজকর্মী জহির রায়হান বলেন, তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি। এক দিন আরশাদ আলীর বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে তাকে দেখে মুগ্ধ হন। একজন মানুষ, যার দুই চোখ নেই, তবুও নিজেই নিজের সব কাজ করেন-এটা দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হন। তার মতে, আরশাদ আলীর জীবন থেকে সমাজের অনেক কিছু শেখার আছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানসিক শক্তির কাছে কিছুই নয়। দৃঢ় মনোবল ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে আরশাদ নিজেই নিজের কাজ শিখেছেন। চাইলে তিনি অন্যের দয়ার উপর নির্ভর করতে পারতেন, কিন্তু তা তিনি কখনো করেননি।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আরশাদ আলী বলেন, ‘চোখের আলো নেই তাতে কি? আল্লাহপাক তো আমাকে হাত, পা, মুখ সবই দিয়েছেন।’ ইচ্ছাশক্তির জোরেই তিনি সবকিছু স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন বলে জানান। জীবন নিয়ে কোন আফসোস আছে কিনা-এমন প্রশ্নে আরশাদ বলেন, ‘জীবন নিয়ে আমার কোন আফসোস নেই। আমি মনে করি, ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগালে জীবন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। শারীরিক অক্ষমতা একটি পরীক্ষা মাত্র। সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রেখে চাইলেই সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যায়।’



কমেন্ট বক্স
notebook

ঝিনাইদহে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩টি পুকুর বেদখল