চুয়াডাঙ্গায় খুলনাগামী রুপশা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মিনাল হোসেন (২২) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ফাস্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন দশ পকেট নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। নিহত যুবক পৌর শহরের ইসলামপাড়ার মৃত মিন্টু হোসেনের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি একই এলাকায় মামা মিকচারের বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ফাস্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির অদূরে ‘দশ পকেট’ নামক স্থানে রুপশা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় মাথা ছিন্নভিন্ন অবস্থায় মিনালের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ (এসআই) জগদীশ চন্দ্র বসু ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্নের পর লাশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নেয়।
স্থানীয় যুবক তারিক হোসেন জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ঘোড়ামারা ব্রিজ থেকে রেললাইন পর্যন্ত মাটির রাস্তায় মিনালের সঙ্গে তার দেখা হয়। তখন মিনাল তাকে জানায়, সে রেল লাইনের দিকে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরই তিনি মিনালের মৃত্যুর খবর শুনতে পান।
আরেক স্থানীয় যুবক রকি জানান, তিনিও মিনালকে রেল লাইনের দিকে যেতে দেখেছেন। তাকে জিজ্ঞেস করলে মিনাল বলেন, তিনি লাইনের দিকে যাচ্ছেন।
মিনালের মামা মিকচার আলী বলেন, ‘মিনাল মোবাইল ব্যবহার করতেন না এবং বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। শনিবার দুপুরে সে বাড়িতে খাওয়া দাওয়াও করে। দেড় বছর আগে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সুস্থ অবস্থায় মিনাল শহরের আলী হোসেন মার্কেটে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করতো। গতকাল দুপুরের পর সে সবার অজান্তে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন ট্রেনে কাটা পড়ে মিনাল মারা গেছে।’
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) জগদীশ চন্দ্র বসু বলেন, ‘স্থানীয়রা মনে করছেন, মানসিক রোগের কারণেই হয়তো মিনাল ট্রেন লাইনের দিকে গিয়েছিলেন এবং ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।’ তিনি বলেন, ‘পরিবার ও স্থানীয়দের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে মিনাল হোসেন দেড় বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় তার চিকিৎসাও চলছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তারা লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন